অতীত ভুলে ঐক্য চান ফখরুল, জামায়াত ছাড়ার শর্ত কামালের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

টিবিটি রাজনীতিঃআগামী নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রয়োজনীতার কথা বললেন বিএনপি, গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। তবে সবাই কিছু না কিছু শর্ত দিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার কথা বলেছেন।

বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘ইভিএম বর্জন, জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তাদের বক্তব্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে অতীতের ভেদাভেদ ভুলে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলেন।

অন্যদিকে বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ সাম্প্রদায়িক শক্তিমুক্ত ঐক্য গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

আর ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নে ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের প্রধান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। কেননা, আমাদের একাত্তর পর্যন্ত একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। জামায়াতের কথা না বলে পারা যায় না।

তারা যেভাবে ধর্ম দেখার চেষ্টা করেছে, একাত্তরে তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। তারপরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডসহ অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু এটা দিয়ে তারা আর যেটা চেয়েছে সেটা করতে পারবে না। পারার প্রশ্নই ওঠে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনেকটা নিঃশর্ত ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবার কাছে যাচ্ছি, বলছি। এখানে ধর্ম, বর্ণ, মত- সবকিছু দূরে রেখে আজকে বাংলাদেশকে রক্ষা করবার জন্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করবার জন্য, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করবার জন্য, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা আর হিংসা দেখতে চাই না। আমরা একটা সত্যিকার অর্থেই ঘৃণার রাজ্য থেকে বেরিয়ে ভালোবাসা শান্তির রাজ্যে আসতে চাই।’

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘শেষ কথা মনে রাখতে হবে, আমি ক্ষমতা চাই, আমরা ক্ষমতা চাই, এই বলে আবার একই পদ্ধতি, একই স্বেচ্ছাচারী সরকার আসবে। এক স্বৈরাচারের পর আরেক স্বৈরাচার, এক স্বেচ্ছাচারের পর আরেক স্বেচ্ছাচার আসবে। এটা বন্ধ করতে হবে।’

এই স্বৈরাচারী সরকারের পুনরাবৃত্তি যাতে না হতে পারে সে জন্য একটা ফর্মুলা তুলে ধরেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বলেন, ‘এটা বন্ধ করার জন্য নতুন ফর্মুলা দিয়েছি। এক হলো- সংসদে ভারসাম্য; দুই. মন্ত্রিসভায় ভারসাম্য এবং তৃতীয় হলো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য।’

সভায় জেসএসডির আ স ম আব্দুর রব ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অন্য নেতারা নির্বাচন সামনে রেখে তারা যে কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছেন তাতে যেন সরকার কোনো ধরনের বাধা না দেয় সেই আহ্বান জানান।

মান্না সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা কয়েকটা জেলায় জনসভা করতে অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু এখনো অনুমতি দেয়া হয়নি। একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনারা অনুমতি না দিলেও আমরা কর্মসূচি পালন করব। আর এই সরকারের দাফন করা হবে।’