অনুষ্ঠিত হল ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশের ‘সাস্টেইনেবল ক্যারিয়ার কনফারেন্স ২০১৮’

প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ | আপডেট: ৪:২৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮

আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০১৮ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ” এর “সাস্টেইনেবল ক্যারিয়ার কনফারেন্স”। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সমাজে স্ব স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার কানবার হোসেইন বোর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাঊন্সিলের হেড অব সোসাইটি তৈফিক আহমেদ, ডা. আব্দুর নূর তুষার, বাংলাদেশ পোস্টের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফরিদুল হাসান, বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ডা. জাহিদুর রশিদ সুমনসহ আরো অনেকে। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্মার্ট টেকনোলজিস বিডি লিঃ-এর পরিচালক (চ্যানেল সেলস) মুজাহিদ আল বিরুনী সুজন।
রাজধানীর ঢাকার আগারগাঁও এ অবস্থিত জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়াম ভবনে কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় সংগীত এবং ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা’ দেশাত্মবোধক গান দিয়ে সকাল ১০টায় কনফারেন্স আরম্ভ হয়। সারা বাংলাদেশ হতে ১২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ অধিক অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এ কনফারেন্সের প্রায় ৮ টি ক্যারিয়ার সেশনে তরুণদের সাথে মেলবন্ধন করেছেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার সফল এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব।

তারুণ্যের সম্ভাবনাময় দেশ বাংলাদেশ । এক পরিসংখানে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ৪.২% বেকারত্বের শিকার যার বেশিরভাগই শিক্ষিত তরুণ। আমরা সবাই গ্র্যাজুয়েশনের পরে যেই চিন্তাটা করি একবার ভাবুন এই চিন্তাটা যদি ভার্সিটি জীবনের প্রথম বছর থেকে করলে কেমন হয়। আপনি যদি সিধান্ত নেন আমি চাকরি করব তাহলে ভার্সিটি জীবনের শুরু থেকে নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করুন যাতে আপনি গ্রেজুয়েশনের পর পর নিজেই বলতে পারেন হ্যা আমি চাকরি জন্য যোগ্য।

বর্তমান যুগে শুধু ভালো সি জি পি এ দিয়ে চাকরি পাওয়া যায় না। তবে রেজাল্ট ও একটি মুখ্য বিষয়। আমাদের অনেক বন্ধু বলে আমি তো বাংলার ছাত্র কিভাবে চাকরী পাবো আমার তো কোন চাকরী নাই। কিন্তু আপনি যদি মনে করেন একজন ভালো মার্কেটিং অফিসার হবেন পড়াশুনার পাশা পাশি নিজেকে একজন ভালো মার্কেটিং করার মত কর্মী হিসেবে তৈরি করেন। তাদের সাথে নেটওয়ার্কিং করেন যারাদের কে দেখে কিছু শিখতে পারবেন।

আর আপনি যদি ব্যাবসায়ী হতে চান তাহলে পড়াশুনার পাশা পাশি শিখেন কিভাবে ব্যাবসা করতে হয় সেই রিলেটেড মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখেন। আমাদের দেশের এই শিক্ষিত তরুনদের এই অবস্থা থেকে উত্তোরনের উপায় তরুণদের ক্যারিয়ার সচেতনতা । টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠতে পড়াশোনাকালীন সময়েই নিজেদের প্রস্তুত করার কোনো বিকল্প নেই । ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ তরুণদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনে সমাজ পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে যার মধ্যে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন অন্যতম। প্রতি বছর ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক যুব দিবস নানা আয়োজনে পালন করে থাকে । এর এই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন।

সারাদিন ব্যাপি এ কনফারেন্সে অতিথি স্পিকার’রা বিভিন্ন সেশনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ন বক্তব্য এবং সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম দিয়ে উপস্থিতিদের ব্যস্ত রাখে। অতিথি স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটের অশোক বিশ্বাস, সাইফুর’স গ্রুপ অব সিওও জিয়াউদ্দিন মাহমুদ, অপটিমিক্স বিডি’র ডিরেক্টর ইকবাল বাহার, রেডিয়েন্ট ইন্সটিটিউট অব ডিজাইন মডারেটর এর চেয়ারম্যান গুলশান নাসরিন চৌধুরি, ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশের সভাপতি আরেফিন রহমান হিমেল, ক্যাপিটাল ৯৪.৮ এফ এম এর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোডিউসার আর জে রাশেদ ইমাম, গিগাবাইট বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার কাজী আ না শখান, সহ প্রমুখ।

এ কনফারেন্স এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে নানা ধরনের দিক নির্দেশনাসহ সরাসরি প্রশ্ন করে ক্যারিয়ার উন্নয়নের নানান দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছে। অংশগ্রহনকারীরা যাতে পরবর্তী সময়ে ক্যারিয়ার গঠনে নানা দিক নির্দেশনা, নেটওয়ার্কিং, বিভিন্ন ক্যারিয়ার গঠন মূলক ট্রেনিং এর মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণ করতে পারে সেই লক্ষ্যে ইবাংলাদেশ ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে তাদের সেই সকল সুবিধা প্রদান করা হবে।

এছাড়াও অংশগ্রহনকারীরা সারাদিন নানা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। কনফারেন্স এর অন্যতম আকর্ষন হিসেবে ছিল যুবদিবস উপলক্ষ্যে ছবি প্রদর্শনী ।

এছাড়াও সমাপনী অনুষ্ঠানে ইয়ুথক্লাব অব বাংলাদেশ ও কম্পিউটার জগতের যৌথ উদ্দ্যোগে সমাজের উন্নয়নের অবদানের স্বকৃতীস্বরূপ তিনটি সংগঠন ও চারজনকে ইয়ুথ এক্সিলেন্স এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও সাইফুরস উপস্থিত ১০ জন শিক্ষার্থীদের “অঙ্গিকার” মেধাবৃত্তি প্রদান করেন। পুরো আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল গিগাবাইট বাংলাদেশ, সিমুড, সাইফুরস, টোটাল স্টুডেন্ট কেয়ার, ইয়ুথ ভিলেজ সহ আরও অনেকে।