‘অপদার্থ’

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ১:১০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের টেস্ট সিরিজ হারের পর থেকেই সমালোচনায় সরব হয়েছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেট গ্রেটরা। সমালোচনার নিশানায় সবার আগে আছেন কোচ রবি শাস্ত্রী।

এবার ভারতীয় দলের টিম ম্যানেজম্যান্টকেও ছেড়ে কথা বললেন না সাবেক গ্রেট সুনীল গাভাস্কার। টেস্ট অভিষেকের জন্য হনুমা বিহারীকে অভিনন্দন জানালেও ওভালে করুণ নায়ার সুযোগ না পাওয়ায় চাঁচাছোলা ভাষায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে আক্রমণ করলেন সাবেক এই অধিনায়ক।
গাভাস্কারের মতে, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের ‘অপদার্থতা’ এবং ‘দূরদর্শীতা’র অভাবেই নায়ারকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। তিনি সংশয় প্রকাশ করেন, তবে কি টিম ম্যানেজমেন্টের পছন্দ অপছন্দ না জেনেই নির্বাচকরা দলে ঢুকিয়ে দেন নায়ারকে?

টেস্ট সিরিজের শুরু থেকে জাতীয় দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নায়ার। দীর্ঘদিন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। অথচ ওভালে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলাতে গিয়ে হার্দিক পাণ্ডিয়ার পরিবর্তে নবাগত হনুমা বিহারীকে প্রথম একাদশে জায়গা করে দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। হনুমার পার্টটাইম স্পিন বোলিং যদি এক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়ে থাকে, তবে গাভাস্কারের ধারণা, আগে থেকেই নায়ারকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।

অফিসিয়ার ব্রডকাস্টারদের বিশেষজ্ঞের চেয়ারে বসে গাভাস্কার বলেন, ‘হনুমাকে অভিনন্দন। আশা করি ও অভিষেক টেস্টই সেঞ্চুরি কিংবা ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকাবে।

দীর্ঘদিন ভারতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে দেশকে টেনে নিয়ে যাবে সে। ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। তবে করুণ নায়ারের সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায় করা হলো। ও শুরু থেকে দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্য কাউকে খেলাতে হলে নায়ারের সুযোগ প্রাপ্য ছিল। ‘
আরও আক্রমণাত্মক সুরে গাভাস্কার বলেন, ‘কয়জন ভারতীয় ব্যাটসম্যানের টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছে? মাত্র দুই জন। নায়ার তাদের মধ্যে একজন। এমন একজন ব্যাটসম্যানকে খামখেয়ালিভাবে দলে ঢোকানো হয় আবার পরের সিরিজেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচকরা ইংল্যান্ড সফরের জন্য ওকে বেছে নিলেও হয়ত টিম ম্যানেজমেন্টের পছন্দের পাত্র নয় নায়ার। তাই ওকে খেলানো হয়নি একটা ম্যাচেও। হয়ত টিম ম্যানেজমেন্ট ওকে দলে চায়নি। তাছাড়া শেষ দু’টি টেস্টের দলে পৃথ্বী ও হনুমা জায়গা পেয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি ভাবে হনুমাকে প্রাধান্য দেবে, তবে নায়ারকে আটকে রাখার মানে কী?’

‘জাতীয় দলের বাইরেও প্রায় সব প্রথম সারির ভারতীয় ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলছে। দলে এগার জনের খেলার সুযোগ থাকে। স্কোয়াডের বাকি ৭-৮ জনকে অহেতুক আটকে রাখার মানে কি? অন্তত সাউদাম্পটন টেস্টের পর বাকিদের ছেড়ে দেওয়াই যেত। এটা সবাই জানে যে, জাতীয় দলে সম্ভাব্য প্রথম একাদশের বাইরের ব্যাটসম্যানরা তেমন একটা নেট প্র্যাকটিস করারও সুযোগ পায় না। ছেড়ে দিলে অন্তত দেশে গিয়ে ম্যাচ খেলতে পারত। ‘

ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট, বিশেষ করে রবি শাস্ত্রীর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে গাভাস্কার বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজের পর হাতে বেশ কিছুদিন সময় ছিল। ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ থাকলেও ভারত গুরুত্ব দেয়নি। নেট প্র্যাকটিস আর ম্যাচ প্র্যাকটিসের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই যদি টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা চিন্তা হয়, তবে অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়েও আমি খুব একটা আশাবাদী হতে পারছি না। ‘