অপর্যাপ্ত তথ্য ও হালনাগাদহীন ভাবে চলছে নোবিপ্রবি’র ওয়েবসাইট

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ১২:১৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

আমিনুল মহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: উপকুলীয় অক্সফোর্ড নামে খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ওয়েবসাইটটি অপর্যাপ্ত তথ্য নিয়ে চলছে। এমন কি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটটি হালনাগাদও হয় না নিয়মিত।

এদিকে হালনাগাদ ও আধুনিকায়নের অভাবে এ ওয়েবসাইট থেকে ডিজিটাল তথ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষক- শিক্ষার্থী সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন খবরের নির্ভর যোগ্য সুত্র হিসেবে প্রথমেই আসে ওয়েবসাইটের কথা। কিন্তু এ কথাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নোবিপ্রবি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ওয়েবসাইট রয়েছে একটি। তাও নিয়মিত হালনাগাদ হয় না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাইটটি সম্পূর্ণ আধুনিক এবং আপডেট না হওয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন না তারা। অনুষদ, ইন্সটিটিউট ও বিভাগের প্রয়োজনীয় তথ্য চাহিদা মাফিক পাওয়া যায় না।

শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, ইন্টারনেটের সুবাদে সারা দুনিয়া যখন মানুষের হাতের মুঠোয় তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ওয়েবসাইট থাকার পরও আমরা সেটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থাকার পরও বিভাগ গুলোকে কোন তথ্য/নোটিশ জানানোর কাজ করা হয় চিঠির মাধ্যমে।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও তথ্য ব্যবস্থা ডিজিটালিজেশনে এমন পিছিয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ওয়েবসাইটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর, বিভাগ, রিসার্চ ইনস্টিউট, মসজিদ, ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষার্থীদের আবাসিক পাঁচটি হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় সংযোজন এবং হালনাগাদে এখনও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ওয়েবসাইটটি ঠিক কবে নাগাদ এসব তথ্য সংযোজন এবং হালনাগাদ করা হবে সে বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোন তথ্যও দেওয়া হয়নি।

সাইটটিতে ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ টি বিভাগের মধ্যে ১৭ টি বিভাগেরই কোন তথ্য নেই। আবাসিক হলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী হল ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের নাম পর্যন্ত ওয়েবসাইট এ উল্লেখ নেই। অন্যান্য হলগুলোর নাম উল্লেখ থাকলেও বিস্তারিত কোন তথ্য দেওয়া নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরী উদ্বোধনের ৩ বছর পার হলেও লাইব্রেরীর বই সংখ্যা, দেশী-বিদেশী জার্নাল সংক্রান্ত কোন তথ্যই খুঁজে পাওয়া যায় নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যাচ সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা, শিক্ষকদের সংখ্যা কোন তথ্য ওয়েবসাইট এ উল্লেখ নেই।

সাইটটি ঘুরে আরো দেখা যায়, হোম অপশনে উপাচার্যের সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া রিজেন্ট বোর্ড অপশনটি থাকলেও রিজেন্ট বোর্ড এর সদস্যদের তালিকা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যায়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা দেখার দায়িত্বে থাকা প্রক্টোরিয়াল বডি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কোন তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাখদুম ফাত্তাহ বলেন, বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকলে তাদের সব তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু নোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে গেলে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায় না।

আইসিই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রেদোয়ানুল বারী ফয়সাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এ সকল শিক্ষার্থীর তালিকা থাকা জরুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এ আমার কোন পরিচয় বা আইডেন্টিটি নেই। এটা খুবই দুঃখজনক। নিয়মিত হালনাগাদ হলে তারা আরো দ্রুত তথ্যসেবা পেতেন বলেও জানান এই শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় ভর্তি পরিক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পায় না এই ওয়েবসাইট থেকে। এজন্য তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি যাতে করে ওয়েবসাইট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিয়মিত হালনাগাদ এবং অপূর্ণাঙ্গ তথ্যগুলো বিস্তারিত ভাবে সংযোজনের দাবিও জানায় তারা।

এই বিষয়ে আইসিই বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আশিকুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আসলে আমাদের বিভাগটি ওয়েবসাইট হালনাগাদ এর দায়িত্বে নেই। তবে আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এর ওয়েবসাইটটি খুব দ্রুত হালনাগাদ করা হোক। সেক্ষেত্রে আমাদের কাছ থেকে কোন ধরনের সাহায্য চাইলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগীতা করব।”

এদিকে ওয়েবসাইটটির সার্বিক দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার সেন্টার এর পরিচালক কৌশিক চন্দ্র হাওলাদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওয়েবসাইটটি হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে। আমার বিশ্বাস আগামি ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এর ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণরুপে হালনাগাদ হয়ে যাবে।”