ধর্মঘটের নামে এ কেমন অসভ্যতা?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৫:১২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে অফিসগামী ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

আবার অন্যদিকে রাজধানীতে দেখা গেছে, বেশকিছু প্রাইভেটকার, সিএনজি এবং লেগুনা গুলোকে। এগুলো গন্তব্যে যেতে চাইলে, গাড়িগুলোতে এমনকি চালকদের গায়ে-মুখে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেয় শ্রমিকরা। এতেই থেমে যায়নি তারা। তাদের এই পোড়া মবিল রাজধানীর ছাত্রীদের গায়েও গিয়ে পড়েছে।

সারাদেশব্যাপী ৪৮ ঘন্টা পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জে সকাল থেকে ধর্মঘট পালন করছেন মালিক-শ্রমিকরা। এসময় মহাসড়কে শ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ছাত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়িচালকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পেশাজীবি মানুষ।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে রবিবার ভোর ৬টা থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেয় শ্রমকিরা।

এ সময় শ্রমিকরা মহাসড়কের সাইনর্বোড, সানাড়পাড়, শিমরাইল মোড়, সিদ্ধিরগঞ্জপুল ও কাঁচপুর পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সকল প্রকার পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। রিক্সা, অটোরিক্সা ও রোগীর অ্যাম্বুলেন্সহ আটকে দেয় তারা। এ ছাড়াও শ্রমিকরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে তাণ্ডব চালায়। পিকেটিং চলাকালে তারা কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেননি।

মহাসড়ক দিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস গন্তব্যে যেতে চাইলে পরিবহন শ্রমিকরা ওইসব পরিবহনে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেন। এমনকি অনেক চালকের শরীরেও পরিবহন শ্রমিকরা মবিল লাগিয়ে দেন। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন প্রাইভেট পরিবহনগুলোর মালিক, চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে শ্রমিকদের গণমাধ্যমের কর্মীদের উপরও চড়াও হতে দেখা যায়। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও শ্রমিকরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে থাকে। ছবি তুলতে গেলে বাঁধা দেয় গণমাধ্যমের কর্মীদের।

অপরদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিমরাইল মোড় এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পিএস সাজ্জাদুল হাসানের গাড়ী আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় আধা ঘন্টা তার গাড়ি অবরোধ করে রাখার পর শিমরাইল মোড়ে কর্তব্যরত নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্যা তাসলিম হোসেন শ্রমিকদের সাথে আলাপ আলোচনার পর গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

অনেকেই হঠাৎ করেই ডাকা শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছে, ‘সড়কে শ্রমিকদের বর্বরতা আগে থেকেই চলছে। এখন আবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অসভ্যতা! এভাবে আর কতদিন আমরা জিম্মি হয়ে থাকবো তাদের কাছে।’

শিমরাইল মোড়ে দায়িত্বরত নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্যা তাসলিম হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকরা গাড়ি ভাংচুরসহ কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’