অবশেষে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান আমেরিকার

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮
ছবিঃ সংগৃহীত

অবশেষে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকা। সৌদি সরকার বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা ও সৌদি আরবের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলা বন্ধ করা এবং হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আগামী মাস থেকে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাথিসও ইয়েমেনে যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু করা উচিত।





মার্কিন কর্মকর্তারা এমন সময় ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন যখন ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত পেয়ে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। গত ৪৪ মাস ধরে চলা যুদ্ধে আমেরিকা সৌদি আরবকে বিমান ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। মার্কিন সিনেটর বারনি স্যান্ডারর্স এ ব্যাপারে বলেছেন, “ইয়েমেন যুদ্ধে আমেরিকাও জড়িয়ে পড়েছে এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে আমরা বোমা সরবরাহ করেছি। আমরা বোমারু বিমানকে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন রকম তথ্য দিয়ে ওই জোটকে সহযোগিতা করছি।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত ৪৪ মাস ধরে সৌদি আরব রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েও ইয়েমেনে তারা কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি এবং ইয়েমেনিদের প্রতিরোধ যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় বিশেষ করে শিশু ও নিরীহ মানুষ হত্যা চলতে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব জনমত এমনকি গণমাধ্যমকর্মী ও কোনো কোনো কংগ্রেস সদস্যের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে যাতে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেন যুদ্ধের অবসান ঘটায়। বিশেষ করে সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিহত হওয়ার ঘটনায় হাত থাকার কথা সৌদি আরব স্বীকার করার পর ওয়াশিংটন ও সৌদির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।





আন্তর্জাতিক তীব্র সমালোচনার মুখে এখন মার্কিন কর্মকর্তারা ইয়েমেন যুদ্ধের অবসান এবং শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধ অবসানের জন্য সৌদি আরব সংলাপে বসবে কিনা তাতে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে। কারণ এর আগেও রাজনৈতিক উপায়ে ইয়েমেন সংকট নিরসনের কথা উঠলেও সৌদি আরব সবসময়ই তার বিরোধিতা করেছে। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক দফতরের সদস্য সাইফুল্লাহ আল শামি বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধের জন্য অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

হুথি আন্দোলনের কর্মকর্তারা বহু আগে থেকেই বলে আসছেন, শান্তি আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ইয়েমেনকে খণ্ডবিখণ্ড করার মার্কিন পরিকল্পনারও তীব্র বিরোধিতা করেছেন। যাইহোক, বর্তমান অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি আলোচনা শুরু হলে ইয়েমেনে মানবিক সংকটের অবসান ঘটবে বলে সকলের প্রত্যাশা।