অবশেষে পাওয়া গেল মাশরাফির উত্তরসূরি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ২:৩০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৮
সংগৃহীত

বাংলাদেশ দলে বর্তমানে মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়ক হিসাবে বেশি সমাদৃত হলেও অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার আগে একজন পেস অলরাউন্ডার হিসাবে খ্যাতি ছিল তার।

বর্তমানেও তিনি বল ও ব্যাট হাতে দলের জন্য ভূমিকা রাখেন। ব্যাটিংয়ের শেষ দিকে নেমে দলের রানটা দ্রুত বাড়িয়ে দেন। মাশরাফির হাতে শট আছে। চার-ছক্কা মারতে পারেন। দলের জন্য মাশরাফির ব্যাটিং অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

লোয়ার মিডল অর্ডার এবং টেলএন্ডারে যারা থাকেন অনেক সময় তাদের ঘাড়েই দায়িত্ব পড়ে ম্যাচ বের করে আনা। মাশরাফি অনেকবার এমন দায়িত্ব পালন করেছেন।





গতি নেই। কিন্তু নিশানা নিখুঁত। তাই বল হাতে দারুণ কার্যকর। ব্যাটেও ঝলসে ওঠেন। আর নেতৃত্বগুণে তো অনন্যই। চোটে-চাপেও নত হন না। টাইগার বাহিনীতে ‘ভয়ডরহীন’ ক্রিকেটের বাণী দারুণভাবে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। সবটা মিলে তার কোনো বিকল্প নেই। বিকল্পহীন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

তবু বয়সের কারণে একটা সময় তাকে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিতে হবে। তাই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য পেস অলরাউন্ডার খুঁজছেন নির্বাচকরা।

অনেককে দিয়ে চেষ্টাও করিয়েছেন তারা। কিন্তু ফল হয়নি। তবে এবার হয়তো কাক্সিক্ষত সেই পেস অলরাউন্ডার পেয়ে গেছেন নির্বাচকরা। তিনি হচ্ছেন ২১ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। যিনি একজন ডান-হাতি বোলার।

কিন্তু বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়েছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে বল হাতে নজর কেড়েছেন। হয়েছেন ম্যাচসেরা।





টাইগার বাহিনী এবার মাশরাফির উত্তরসূরি হিসাবে পেয়ে গেল মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। গত ২১ অক্টোবর ছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৩৯ রানে ছয় উইকেট হারায় টাইগাররা। এমন সময় সপ্তম উইকেট জুটিতে ইমরুল কায়েসের সঙ্গী হন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এই ম্যাচে তিনি দারুণ ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন।

দুজনে মিলে ১২৭ রানের জুটি গড়েন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ানডেতে সপ্তম উইকেট জুটিতে তাদের এই পার্টনারশিপই এখন সেরা। এদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো হাফ সেঞ্চুরি করেন সাইফউদ্দিন।

৫০ রান করে আউট হন তিনি। পরে বল হাতে সাত ওভার বল করে ২৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন তিনি। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জয় পায় ২৮ রানে।

এরপর ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বল হাতে দশ ওভার বল করে ৪৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দশ ওভারের মধ্যে একটি ওভার মেডেন ছিল।





এদিনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো দুইয়ের অধিক উইকেট শিকার করেন তিনি। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জয় পায় সাত উইকেটে। এদিন সাইফউদ্দিনের আর ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি।

তারপরও দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে তিনি ম্যাচ সেরা হন। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এদিনই প্রথমবারের মতো তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার পান।

গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় সাইফউদ্দিনের। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৬ রান করে বল হাতে কোনো উইকেট পাননি।

গত জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেন এই তরুণ ক্রিকেটার। সেই ম্যাচেও খুব একটা ভালো করতে পারেননি। এরপর নিদাহাস ট্রফি, আফগান সিরিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ও এশিয়া কাপ কিছুতেই ডাক আসেনি তার।

কিন্তু সামনে বিশ্বকাপ। এখন থেকেই দল গোছানোর পরিকল্পনা করছে নির্বাচকরা। দলে একজন নির্ভরযোগ্য পেস অলরাউন্ডার খুঁজছেন নির্বাচকরা। যিনি বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে দলের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবেন। যার জন্য সাইফউদ্দিনকে পরখ করে দেখতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলে নেন নির্বাচকরা। আর দলে সুযোগ পেয়ে ভালো করতে পেরে খুশি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

গত ২৪ অক্টোবর ম্যাচসেরা হওয়ার পর সাইফউদ্দিন বলেন, ‘অনেক ভালো লাগছে। আসলে ক্রিকেট খেলাটা এমনই। বাইরে থাকব, আবার ফিরব, ভালো খেলব। ইনজুরির কারণে বা অফ ফর্মের কারণে বাইরে চলে যাব।