অভাবের তাড়নায় গর্ভের সন্তান বিক্রি!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৩:২৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৮

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ারচর গ্রামের জাহাঙ্গীর ও রাবিয়া দম্পতি। তাদের ১৭ বছরের বিবাহিত জীবনে চারটি সন্তানের জন্ম হয়। ভূমিহীন এ দম্পতির সন্তান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভাবও সমানতালে বেড়ে যায়।

মাস তিনেক আগে স্থানীয় এনজিও আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকের কাছ থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন তারা। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে স্ত্রী-সন্তান ফেলে রেখে পালিয়ে যান জাহাঙ্গীর।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় অভাবের তাড়নায় নিজের গর্ভের সন্তানকে বিক্রি করেছেন এক মা। বকশীগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিমপাড়ার এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবরটি শুনেই শুক্রবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকায় ছুটে যান বকশীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান তাজুল ইসলাম। এসময় হতদরিদ্র ওই মাকে নগদ অর্থ সহায়তা করেন তিনি।

ঋণের হাত থেকে বাঁচতে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পৌর এলাকায় পশ্চিমপাড়ায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন রাবেয়া। অন্ধ বাবা আঙ্গুর মিয়ারও অভাবের সংসার। অন্য দুই মেয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে।

স্বামীর সংসারে থাকলেও বাবার জন্য কিছু কিছু করে টাকা পাঠায় তারা। যে মাসে টাকা পাঠাতে না পারে, সে মাসে অনাহারে থাকতে হয় তাদের। এর মধ্যে চার সন্তানসহ রাবিয়া বাবার সংসারে আসার পর দিনে এক বেলা খেয়ে চললেও ঋণদাতারা পিছু ছাড়েনি।

ঋণ থেকে বাঁচতে নিজের গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হন রাবিয়া। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রাবিয়া নিজের নিঃসন্তান আপন বোন দিলারী বেগমের কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তার অনাগত সন্তানকে। এরই মধ্যে পাঁচ হাজার টাকাও নিয়েছেন তিনি। বাকি টাকা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল।

এ বিষয়ে রাবেয়া বলেন, দুনিয়ার সব থেকে কঠিন কাজ নিজের সন্তান বিক্রি করা। কিন্তু কী করবো, উপায় নেই। স্বামী নিরুদ্দেশ হওয়ায় ছেলে-মেয়েদের ৩ বেলা খাবার দিতে পারছি না। এদিকে প্রতিদিন এনজিও থেকে লোক এসে জেলের ভয় দেখায়। তাই বাধ্য হয়েই নিজের অনাগত সন্তানকে বিক্রি করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, অভাবের তাড়নায় নিজের অনাগত সন্তানকে বিক্রির ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে রাবিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বাড়ি গিয়েছি।

ওই নারীর সন্তান বিক্রির বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে তাকে তাৎক্ষণিক ১৫ হাজার টাকা অর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা, গর্ভকালীন ভাতাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও তাজুল ইসলামা।