‘অভিন্ন নীতিমালা’ প্রত্যাখ্যান রাবি শিক্ষক সমিতির

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ১:১১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
সংগৃহীত

রাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য নীতিমালা প্রত্যাখ্যান করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত সভায় প্রস্তাবিত ওই নীতিমালা সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাখান হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও অপমান করা হয়েছে।

এছাড়াও নীতিমালায় অস্পষ্টতা রয়েছে। আবেদনের যোগ্যতায় চার বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্সের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কোন বিষয়ের স্নাতক কোর্সে সময় বেশি লাগে, নীতিমালায় এ বিষয়টি অস্পষ্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় ইউজিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবার শিক্ষার মান এক নয়।

শিক্ষকদের মানও এক নয়। একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক যোগ্যতায় নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নূ্যনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় সিজিপিএ-৪ এর বিপরীতে ৩ দশমিক ৬০।

আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র সিজিপিএ ৩ চাওয়া হয়। শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও রয়েছে অরাজকতা। ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে অধ্যাপক পর্যন্ত পদোন্নতি পেতে স্বীকৃত জার্নালে ১২টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে হয়।

আবার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক অর্থাৎ একের বেশি গবেষণাপত্র থাকলেই চলে। নীতিনির্ধারকদের মতে, নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে স্বচ্ছতা আনতে ও দুর্নীতি রোধ করতেই অভিন্ন নীতিমালার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত থাকা এক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন নীতিমালা থাকবে এটা কাঙ্ক্ষিত কিন্তু অবশ্যই এই নীতিমালা প্রণয়ন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ।

তাদের মাধ্যমে এই নীতিমালা প্রণয়ন হওয়ার কথা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবজ্ঞা করে, অসম্মান করে শিক্ষকদের উপর অসংগতিপূর্ণ নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়িত্বশাসনের পরিপন্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী, জ্ঞান সৃষ্টি ও বিকাশের যে প্রতিযোগিতা থাকে তার পরিপন্থী।’ এ সময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ফারুকীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।