অর্থের বিনিময়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে রোগী সেজে সুস্থ বন্দীদের আয়েশী জীবন!

দুদকের অভিযান

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৩:২৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৯
সংগৃহীত

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রোগী সেজে কারা হাসপাতালে আয়েশীভাবে আছেন সুস্থ কারাবন্দীরা। অসুস্থ কারাবন্দীদের মধ্যে যারা টাকা দিতে না পারেন তারা কারা হাসপাতালে চিকিৎসা বা ভর্তি হয়ে সিট পান না।

বরং অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী বন্দী বা রাজনৈতিক বন্দীরা কারা হাসপাতালে দিনের পর দিন অসুস্থ বন্দী পরিচয়ে সুবিধা নেন। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের সরেজমিন তদন্তে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র মিলে।

দুদকের উপপরিচালক (মিডিয়া) প্রণব কুমার ভট্টচার্যকে উদ্ধৃত করে প্রভাবশালী পত্রিকা সংবাদ লিখেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েদিদের হাসপাতালে ভর্তি করার বিষয়ে অনিয়মের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।

দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) উল্লিখিত অভিযোগ পেয়ে এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী এ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।

দুদকের মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বিশ্বাস, সহকারী পরিচালক মো. রাউফুল ইসলাম এবং উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ দুদকের পুলিশ ইউনিটের সদস্যবৃন্দ এ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

অভিযানকালে দুদক টিম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদিদের জন্য হাসপাতাল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১৭০ শয্যাবিশিষ্ট কারা হাসপাতালে দুই-তৃতীয়াংশ সিটই সুস্থ কয়েদিদের দখলে।

হাসপাতালের সিটে আয়েশী ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যায় তাদের। পরিদর্শনকালে কিছু কক্ষে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওভেন ইত্যাদিও ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এমনকি কারাগারে অবস্থানের পর থেকেই অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাসের পর মাস হাসপাতালে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে।

কারা হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা ও সেবক এ অনিয়মের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। অবিলম্বে এ দুর্নীতি বন্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় এনফোর্সমেন্ট দল।

এ অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, কারাগারের এ দুর্নীতির ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, দুর্নীতি জড়িতদের চিহ্নিত করে দুদক অনুসন্ধান শুরু করবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে।