আঙুলটিতে এখন হাত দিলে পরে বোনে চলে যাবে আর হাড়ে চলে গেলে পুরো হাত নষ্টঃসাকিব

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৩১:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৮
ফাইল ছবি

টিবিটি খেলাধুলাঃ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ পথ দিয়ে কতবারই তো গেছেন। কখনো ক্রিকেট খেলতে কখনো ব্যক্তিগত কাজে। একরাশ হতাশা নিয়ে এশিয়া কাপের মাঝেই ফিরেছেন এ পথ দিয়েই। এবার যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া। মাথায় বিশাল শঙ্কা নিয়ে। হাতের আঙ্গুলটা বেশ ভোগাচ্ছে।

আপাতত চিকিৎসক কে দেখিয়ে পাঁচদিন পর ফিরে আসবেন। ইনফেকশন শূন্যতে নেমে আসলেই হবে অস্ত্রোপচার। তখন আবারো উড়াল দিতে হবে। যাওয়ার আগে দিয়ে গেছেন বিষাদ মাখা এক খবর। আর কখনোই শতভাগ স্বাভাবিক হবে না সাকিব আল হাসানের চোটগ্রস্ত আঙুলটি।

এ বছর আর মাঠে নামা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনটা হতে পারে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফর দিয়ে। তবে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিপিএলের শুরু থেকেই খেলার ব্যাপারে আশাবাদী ঢাকা ডাইনামাইটস অধিনায়ক।

‘এখন যেটা আছে, তিন মাসের যে টাইমফ্রেম তাকে এক সপ্তাহর বেশি হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত তো আমি আশাবাদী যে প্রথম থেকেই খেলতে পারবো। এখন অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি, ওরা যদি বেটার কোন ট্রিটমেন্ট দিতে পারে তাহলে আরো তাড়াতাড়ি হয়তো সারার সম্ভাবনা থাকবে। এখন মূল যেটা হয়েছে, ইনফেকশনটা তো দূর করতে হবে।

ওটা চলে গেলেই আসলে বুঝা যাবে কত সময় লাগবে। আর মেইন সার্জারি যেটা করার কথা ওটা হলে ছয় থেকে আট সপ্তাহ। নরমালি ছয় সপ্তাহ লাগে। দুই সপ্তাহ বেশি ধরা হয়। যদি ছয় সপ্তাহ হয় তাহলে বিপিএলের বেশ আগেই ফিট হয়ে যাবো ইনশাল্লাহ।’

‘যদি শুধু সার্জারিটা করা লাগতো তাহলে আমার আসলে খুব একটা খারাপ লগতো না। যেহেতু এটা অনেক আগের ইনজুরি, আমি জানি যে আমার সার্জারি করা লাগবে। মানসিকভাবে আমি প্রস্তুত ছিলাম। আসলে ইনফেকশান আমার সবথেকে বড় টেনশনের জায়গাটা। কারণ, ওটা যতক্ষণ পর্যন্ত না জিরো পার্সেন্টে আসবে, কোন সার্জন হাত দিবে না।

কারণ, ওটা হাত দিলে পরে বোনে চলে যাবে আর হাড়ে চলে গেলে পুরো হাত নষ্ট। এখন আমার মেইন পয়েন্ট হচ্ছে কিভাবে ইনফেকশনটা সারানো যায়। অস্ট্রেলিয়ায় আমি ইনফেকশনের ট্রিটমেন্টের জন্যই যাচ্ছি, আর কোন ট্রিটমেন্টের জন্য যাচ্ছি না।’

ইনজুরি ক্রিকেটারদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এরচেয়ে বিশাদমাখা সময় আর কখনো যায়নি। এই ইনজুরিই তাকে ভাবাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এমনটাই মত সাকিবের।

‘ইনজুরির দিক থেকে এটাই তো আসলে সব থেকে বড়। এর আগে যে সার্জারিটা হয়েছিল ওটা খুব বেশিদিনের না যদিও ওটা প্রথমেই যদি সঠিক ট্রিটমেন্ট হত তাহলে অনেক কম সময়ে হয়ে যেতো।

তবে ওটা আসলে অত বেশি চিন্তার ছিল না। তবে এটা আমার কাছে মনে হয় অত বেশি। একটা জিনিস যে, হাতটা পুরোপুরি তো আর ওইভাবে ঠিক হবে না কিন্তু, ক্রিকেট খেলার মতো ঠিক করতে হবে আঙুলটা।’

বিষয়টা আরেকটু পরিস্কার করে সাকিব বলেন, ‘ওই আঙুলটা আর কখনো শতভাগ ঠিক হবে না। কারণ, এটা হচ্ছে হাড্ডিটা যেটা নরম হাড্ডি। এটা আর কখনো জোড়া লাগার সম্ভাবনা নাই। অতএব পুরোপুরি ঠিক হবে না কিন্তু সার্জারিটা হবে এমন যে, ওরা এমন একটা সিচুয়েশনে এনে দিবে যেখান থেকে আমি ব্যাট-ট্যাড ভালোভাবে ধরতে পারবো, ক্রিকেট খেলাটা চালাতে পারবো।’

সাকিবের এশিয়া কাপ খেলা নিয়ে নাটক কম হয়নি। যদিও এশিয়া কাপ না খেলে ওই সময়টাতে হাতের অপারেশনটা করিয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বোর্ডের চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এশিয়া কাপ খেলতে মত দেন সাকিব। কিন্তু, কেন এমন ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেশসেরা এ ক্রিকেটার?

‘এখানে সবকিছুর কম্বিনেশন ছিল। যেহেতু আমাদের কাছে এশিয়া কাপটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখানে দ্বিমত পোষণ করার তো কোন কারণ নেই। সেটা একটা কারণ ছিল খেলার জন্য। তারপরে ফিজিওর সাথে যখন আলাপ করি, কেউই আসলে চিন্তা করে নাই যে ইনফেকশনটা হয়ে যাবে। ব্যথা নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যেভাবে খেলতে পেরেছিলাম, আমি বলেছিলাম যে অতটুকু যদি থাকে তাহরে সহ্য করতে পারবো।

অতএব ও বলেছে যে, এর থেকে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু, যেকোনো কারণেই হোক ওখানে ইনফেকশনটা হয়ে গেল। (এশিয়া কাপ) পুরাটা শেষ করতে পারলাম না। করতে পরলে ভালো লাগতে। কিন্তু, যেটা হয়েছে আসলে কিছু করার নাই।’

এ বছরটা আর খেলতে পারবেন। এর প্রভাবটা তো বিশাল। কিন্তু সাকিব সেটা মানতে নারাজ। বললেন, শুধু সাকিব-তামিম কেনে? আরো কয়েকজন না খেললেও কোনো সমস্যা হবেনা। জুনিয়রদের উপর শতভাগ আস্থা রাখছেন তিনি।