আজকের সমাবেশ থেকে দেওয়া হবে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৫:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৮
ফাইল ছবি

আজ ২টা থেকে শুরু হওয়া এ সমাবেশ থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেয়ার আভাস দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নতুন জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সোমবার সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। এর পরই শুরু হয়েছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ এ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

সোমবার রাতে মতিঝিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা আদায়ে তারা সরকারকে সময় বেঁধে দেবেন।

বুধবার পর্যন্ত অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি মেনে নিতে হবে। অন্যথায় হরতাল-অবরোধ-লংমার্চ-নির্বাচন কমিশন ঘেরাও’র মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যদিও ঐক্যফ্রন্ট এখনই হরতাল ও অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচিতে যেতে চাচ্ছে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাবি আদায় সম্ভব না হলে হরতাল ও অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচিতে যাবে তারা। আর প্রথমবারের মতো মঞ্চে উঠবেন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

এর আগে সোমবার রাতের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল জনসভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘সংলাপে মৌখিক আশ্বাসের পরেও সারা দেশে গণগ্রেপ্তার চলছে। এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৭ নভেম্বরের সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের নামের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার সেটি ঠিক করে জানানো হবে। তবে সংলাপে আলোচনার বিষয়বস্তু ঠিক করা হয়েছে।’

ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র জানান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করায় ধন্যবাদ জানানো হয় বৈঠকে এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি জোটের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওপর রংপুরের আদালতে আক্রমণের ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ আইনি প্রক্রিয়ায় মইনুল হোসেনের মুক্তি দাবি করা হয়। এ ছাড়া জোটের সমন্বয় কমিটির প্রধান মমিনুল হক চৌধুরীর জামিন প্রলম্বিত হওয়ায় নিন্দা জানায় ঐক্যফ্রন্ট।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঐক্যফ্রেন্টর নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রাজধানীতে প্রথমবারের মতো জনসভার অনুমতি পেয়েছে সদ্যগঠিত সরকার বিরোধী এই জোট। এ ছাড়া ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসতে গণভবনে যাবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।