আদালতের আদেশও মানছে না সৈয়দপুর ইউএনও ও মাদ্রাসা অধ্যক্ষ

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৩৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মোঃ সাদিকউর রহমান শাহ্ (স্কলার), নীলফামারী প্রতিনিধি: সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম গোলাম কিবরিয়া ও সোনাখুলী মুন্সীপাড়া কামিল মাদ্রাসার ভ‚য়া অধ্যক্ষ আ.ব.ম মনসুর আলী উচ্চ আদালতের আদেশ মানছেন না দীর্ঘদিন যাবৎ।

তাই আদেশ অমান্য করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন মাদ্রাসার সভাপতি জনাব সোহেল চৌধুরী কনটেম্পট পিটিশন নং ২৭৩/২০১৯। ঘটনার বিবরনে জানা যায় ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি কর্তৃক সোনাখুলী মুন্সীপাড়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি পদে তিন বছরের জন্য মনোনয়ন পান জনাব সোহেল চৌধুরী।

সভাপতি হবার পর হতে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ তার গোচরীভূত হওয়ায় তিনি উক্ত মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২৮/০৪/২০১০ ইং তারিখের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ভ‚য়া অধ্যক্ষ প্রমাণিত, সার্টিফিকেট জালিয়াতী করে সরকারের খাতায় কয়েকবার বয়স পরিবর্তন, সার্টিফিকেটের বয়স তিনটি, নিজের ভাগিনাকে ভ‚য়া নিয়োগ প্রদান, অবৈধ ভাবে জামাতাকে চাকুরীতে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা করলে তিনি তাতে বাধা সৃষ্টি করেন।

বর্তমান সভাপতি তার এইসব অনৈতিক কর্মকান্ডে সহায়তা না করলে ভূয়া অধ্যক্ষ আ.ব.ম মনসুর আলী গভর্নিং বডির সভাপতি চলমমান থাকা অবস্থায় ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় হইতে মোকলেছুর রহমান নামে জনৈক ব্যাক্তিকে এডহক কমিটির সভাপতি করে নিয়ে আসেন।

সরকারী প্রজ্ঞাপন নীতিমালা অনুযায়ী মনোনীত সভাপতিকে বাতিল বা স্থগিত না করে নতুন করে অন্য কাউকে সভাপতি দেওয়ার নিয়ম না থাকায়। নিয়ম ভঙ্গ করার অপরাধে সভাপতি উক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। যাহার নং-৫১৩৭/২০১৮।

মহামান্য আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে মোকলেছুর রহমানের কমিটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। মোকলেছুর রহমান চেম্বার আদালতে গিয়ে আদেশটি স্থগিত করার চেষ্টা করেন চেম্বার আদালত তার আবেদনটি না মঞ্জুর করে পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠিয়ে দেন। যাহার নং-১৩৭/২০১৮।

অধ্যক্ষ আ.ব.ম মনসুর আলী পুনরায় উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে সভাপতিকে না মানার জন্য নিজে বাদী হয়ে ২৭৫/২০১৯ সিভিল পিটিশন দায়ের করেন। মহামান্য আদালত ৫১৩৭/২০১৮ আদেশটি স্থগিত করে ১০ই মার্চ ২০১৯ ইং পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠিয়ে দেন এবং গত ১০ ই মার্চ ১৩৭/২০১৮, ২৭৫/২০১৯ উভয় মামালার শুনানী অন্তে সোহেল চৌধুরীকে সভাপতি পদে বহাল রাখেন।

সুচতুর অধ্যক্ষ মামলায় হেরে গিয়ে আদালতের আদেশ না মেনে তার চাকুরীর মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ হওয়ায় সভাপতি তার বেতন বিলে স্বাক্ষর করবেন কিনা সন্দেহ বিধায় সভাপতির কাছে বেতন বিলের প্রতি স্বাক্ষর না করিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ভ‚ল তথ্য প্রদান করে বেতন বিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন।

এতে সভাপতি জনাব সোহেল চৌধুরী আদালতের আদেশে সভাপতি পদটি ফেরত পেলেও অধ্যক্ষ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলে তার পদ এবং পদবীকে অপমানিত করা হয়েছে তাই তিনি উক্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতের আদেশ অবমাননার মামলা দায়ের করেন যাহার পিটিশন নং-২৭৩/২০১৯ মহামন্য আদালত তার আবেদনটি মঞ্জুর করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অধ্যক্ষকে কেন আপনাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা মর্মে জানতে চেয়ে চার সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন।

আদালতের উক্ত নোটিশ পাবার পরেও আদালতকে বৃদ্দাঙ্গুল দেখিয়ে চাকুরীর মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ অধ্যক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতির পদটিকে অবমাননা করে শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বিলে প্রতি স্বাক্ষর করছেন।

এ ব্যাপারে সভাপতি জনাব সোহেল চৌধুরী ও তার আইনজীবি হুমায়ুন কবীর সাথে কথা বললে তারা জানান অধ্যক্ষ চতুর দূর্নীতিবাজ হতে পারেন কিন্তু একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্মানী ও সচেতন এবং আইন জানা ব্যাক্তি কেমন করে উচ্চতর আদালতের আদেশ অমান্য করছেন এটি তাদের বোধগম্য নয়।