আন্তর্জাতিক কনক্রিট প্রজেক্টস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চুয়েট

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১ | আপডেট: ৭:৫৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১

গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক কনক্রিট প্রজেক্টস প্রতিযোগিতায় একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন, ১ম ও ২য় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠন আমেরিকান কনক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগীতায় চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ‘১৫ ব্যাচের ৩টি দল প্রতিযোগীতার সবকটি পুরস্কার অর্জন করেছেন।

চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন-মো. মাহফুজুল ইসলাম ও ইমতিয়াজ ইবনে গিয়াস। একইসাথে প্রতিযোগিতায় এজাজ আহমেদ ও সৈয়দ মারুফ-উল হাসানের দল প্রথম রানারআপ এবং জান্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া ও তাবাসসিমা ফারিয়ার দল দ্বিতীয় রানারআপ পুরষ্কার অর্জন করেন।

আজ ২৭ জুলাই (মঙ্গলবার) ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের এসিআই সদর দপ্তর থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে উক্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রাপ্ত প্রজেক্টগুলো হতে “ব্লাইন্ড রিভিউ” পদ্ধতিতে পাঁচজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিচারক প্রতিযোগিতার বিজয়ী নির্বাচন করেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে এসিআই বিশ্বব্যাপী ভার্চুয়ালি এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেয়। চুয়েট হতে প্রাপ্ত প্রজেক্টগুলো থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে মে মাসে ৪টি প্রজেক্ট অনলাইনে এসিআই সদর দপ্তরে জমা করা হয়। প্রসঙ্গত, বিশ্বের প্রায় ২৫০টি দেশে এসিআই-এর স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চ্যাম্পিয়ন দল পুরষ্কার হিসেবে ৭৫০ মার্কিন ডলার এবং একটি আন্তর্জাতিক সনদপত্র পাবে। অন্যদিকে প্রথম রানারআপ দল ৫০০ মার্কিন ডলার এবং দ্বিতীয় রানারআপ দল ২৫০ মার্কিন ডলারের পাশাপাশি একটি করে সনদপত্র পাবে।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের উপস্থাপিত প্রজেক্ট হচ্ছে- ‘ই-কোলি ব্যাকটেরিয়া দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিট তৈরি’। গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম। অন্যদিকে প্রথম রানারআপ দলের উপস্থাপিত প্রজেক্ট ছিল- ‘চাপ প্রয়োগ করে শিল্পবর্জ্য হতে পরিবেশবান্ধব বিল্ডিং ব্লক তৈরি’ এবং দ্বিতীয় রানারআপ দলের উপস্থাপিত প্রজেক্ট ছিল- ‘তিন ধরনের শিল্পবর্জ্য একত্রে করে টেকসই বিকল্প সিমেন্ট’।

এই দুটো গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন এসিআই, চুয়েট স্টুডেন্টস চ্যাপ্টারের অনুষদ উপদেষ্টা ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জি.এম. সাদিকুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চুয়েটের এমন অপ্রতিরোধ্য সাফল্যে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)’র ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। একইসাথে পুরকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. রবিউল আলম ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান।

এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারী গবেষণা প্রবন্ধগুলো সম্পর্কে নিজেদের অনুভূতি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ‘ই-কোলি ব্যাকটেরিয়া দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিট তৈরি’ শিরোনামের গবেষণা সম্পর্কে মো. মাহফুজুল আলম বলেন, “মাইক্রোবিয়াল কনক্রিটের অগ্রগতি বাংলাদেশের নির্মাণ ক্ষেত্রের গবেষণার নতুন একটি বিষয়। গবেষণাকালে অধিকতর শক্তিশালী ও টেকসই কনক্রিট তৈরি করার লক্ষ্যে ই-কোলি ব্যাকটেরিয়াল স্ট্রেন ব্যবহার করা হয়। যা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ফাটল নিরাময়ে সহায়ক। এই গবেষণায় তৈরি করা কনক্রিট পরিবেশ বান্ধব। যা গ্রীনহাউজ গ্যাসের নিসঃরণ হ্রাস করে এবং বাংলাদেশের নির্মাণকাজে ব্যবহারের উপযোগি বলে আমরা মনে করি।”

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ‘চাপ প্রয়োগ করে শিল্পবর্জ্য হতে পরিবেশবান্ধব বিল্ডিং ব্লক তৈরি’ শিরোনামের গবেষণা সম্পর্কে এজাজ আহমেদ বলেন, “ইট উৎপাদনে ইটের ভাঁটাগুলো একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণে ক্ষতিকারক গ্যাস নিঃসরণ করছে অন্যদিকে ইট তৈরির কাঁচামাল যোগান দিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাষাবাদ্যোগ্য উর্বর জমি নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সিংহভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো কয়লাকেন্দ্রিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাই গবেষক দলের মূল উদ্দেশ্য ছিল কয়লাকেন্দ্রিক বিদুৎ কেন্দ্রর ফ্লাই এ্যাশ এবং অন্যান্য বড় বড় শিল্পকারখানাগুলো হতে উৎপন্ন আবর্জনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে পরিবেশনান্ধব ইট তৈরি করা সম্ভব।”

অন্যদিকে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ‘তিন ধরনের শিল্পবর্জ্য একত্রে করে টেকসই বিকল্প সিমেন্ট’ শিরোনামের গবেষণা সম্পর্কে জান্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া বলেন, “নির্মাণশিল্পে সিমেন্টের পরিবর্তে শিল্পবর্জ্যের ব্যবহার নিশ্চিতকরণই ছিল আমাদের গবেষণার প্রারম্ভিক এবং মূল লক্ষ্য। এসব বর্জ্য নির্মাণকাজে যথাযথ ব্যবহার করে উপযুক্ত ফলাফল পাওয়া বরাবরই আমাদের জন্য একটি সাফল্য। সেইসাথে পরিবেশবান্ধব নির্মাণের দিকে একটি উত্তম ধাপ বলে আমরা মনে করি।”