‘আন্দোলন চলবেই’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৭:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৮
ফাইল ছবি

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংলাপ চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আমাদের কথাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কানে দিয়েছি। মানবেন কি মানবেন না, সেটি উনাদের ব্যাপার। আমাদের দাবির আন্দোলন চলবেই। ষড়যন্ত্র করে ঐক্য ধ্বংস করা যাবে না।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আরামবাগ গণফোরাম কার্যালয়ে জাতীয় জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে জাতীয় ঐক্য ধ্বংস করা যাবে না। এ ঐক্য জনগণের ঐক্য। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর জনগণের স্বার্থেই এই ঐক্য তৈরি হয়েছে। এতটা বছর পার হয়েছে, কিন্তু জনগণ স্বাধীনতার সুফল পায়নি। সোনার বাংলা গড়া ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলা গড়তেই এই জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে।

গণফোরাম সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল এদেশ হবে সবার। থাকবে না কোনো ভেদাভেদ, থাকবে না কোনো বৈষম্য, আর ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এসে ভাবতে হচ্ছে, জনগণকে কী পেল। যারা উন্নয়নের কথা বলেন, তারাই বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। কেউ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, আবার কেউ নিঃস্ব হয়েছে। তাই নতুন করে বাঁচতে জনগণের স্বার্থেই জাতীয় ঐক্য তৈরি করা হয়েছে। আগামী দিনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এ দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণই এ দেশের মালিক। ১৯৭১ সালেও এই জনগণই অস্ত্র ছাড়াই রুখে দিয়েছে পাকিস্তানিদের। আমরা ভয় করি না। জনগণ আবার জেগেছে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ও সৈরশাসনের বিরুদ্ধে। বৈষম্যমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য,’— বলেন ড. কামাল।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আসলেই কি সুযোগ নেই— জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, অবশ্যই সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ আছে। তবে সেটি কী পদ্ধতিতে হবে, তা নির্ভর করবে আলোচনার ওপর। সবার ঐক্যমতের ওপর। সংবিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনী রাখা যায়। আলোচনায় অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কে একমত হওয়া যায়। কাজেই আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টি ভাববে এবং ফের সংলাপে বসবে।

উল্লেখ্য, ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ২৩ জন এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২০ নেতা সংলাপে অংশ নেন। সংলাপ শেষে উভয় পক্ষের নেতারা জানিয়েছেন, এক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বাধীন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ কর্মসূচি পালন, জাতীয় নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর বাইরে ঐক্যফ্রন্টের বৃহত্তম শরিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, তফসিল ঘোষণার আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ বাকি দাবিগুলো নিয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি ক্ষমতাসীন দলের। আলোচিত এই সংলাপকে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের পক্ষ থেকে ‘ফলপ্রসূ’ অভিহিত করা হলেও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এই সংলাপে ‘সন্তুষ্ট নন’ বলে জানিয়েছেন।