আবারও ৩ দিনের সফরে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৪০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৮

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আবারও তিন দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে আসছেন। যোগ দেবেন নাগরিক সংবর্ধনা ও তার দীর্ঘদিনের আইন ব্যবসার কর্মস্থল কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবীদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

এছাড়া বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে কুশল বিনিময় করবেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রবীণ বন্ধুদের। এর আগে তিনি পাঁচ দিনের সরকারি সফরে এসে নিজ নির্বাচনী এলাকার তিন হাওর উপজেলার চির চেনা হিজল-তমাল ছায়া আর কাদা মাটি জলে ঘুরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধন করেন এবং নিজ পৈত্রিক ভিটায় সময় কাটিয়ে যান।

সফর কর্মসূচি ও স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র মতে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সফরের প্রথম দিন ৮ অক্টোবর সোমবার তার শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবনের অম্লমধুর স্মৃতি বিজড়িত কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

একইদিন সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউজে জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ৯ অক্টোবর মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি বেলা ১১টায় জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। একইদিন বিকালে রাষ্ট্রপতি তার রাজনৈতিক জীবনের সাথী কিশোরগঞ্জের প্রয়াত ১৬ ব্যক্তির বাড়িতে যাবেন এবং পরিবার পরিজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। শহরের খরমপট্টিস্থ নিজ বাসায় তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

১০ অক্টোবর বুধবার বিকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করবেন।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইন সদরের কামালপুর গ্রামের ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি পিতা মরহুম হাজী মো. তায়েব উদ্দিন এবং মরহুমা তমিজা খাতুন দম্পতির ঘর আলো করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের জন্ম হয়। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজে অধ্যায়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৬৬-৬৭ সালে তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের কারণে ১৯৬৮ সালে তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের নির্বাচনে তিনি সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন এবং ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

৭১-এর মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কিশোরগঞ্জে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ মার্চ কিশোরগঞ্জ শহরের রথখোলা মাঠে ছাত্র জনসভায় হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন তিনি।

এ কারণে তখন তাকে ভাটির শার্দুল উপাধিতে ভূষিত করে এলাকাবাসী। তিনি দুঃসময় ও ক্রান্তিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দীর্ঘ ৩৭ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে ৭ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর এ আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তার উপর অর্পিত হয় বিরোধী দলীয় উপ-নেতা, ডেপুটি স্পিকার, স্পিকার এবং পরপর দুবার রাষ্ট্রপতির মতো পদের গুরু দায়িত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য সর্বশেষ তার সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতা পদকের হিরণ্ময় পালক।