‘আমাকে চিনিস, আমি এই হলের নতুন দায়িত্ব পেয়েছি’

রাতিক চিৎকার করে বলেন, ‘আমাকে তুই চিনিস, আমি এই হলের নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। আমি যা করতেছি শুধু দেখ, একটাও বাধা দিবি না। তোকে এখানে কে রেখেছে? তোকে লাথি মেরে এখান থেকে বের করে দিবো।’

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৫৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৮
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখার সাধারণ সম্পাদক রাতিক। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা রাতিকের বিরুদ্ধে হলের প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০ অক্টোবর, শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলে এ ঘটনা ঘটে।

রাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখার সাধারণ সম্পাদক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা রাতিক তার অতিথিকে নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। ওই সময় হল প্রহরী নওশাদ অতিথির পরিচয় জানতে চান। রাতিক তার অতিথির পরিচয় দিলে প্রহরী নওশাদ জানান, অতিথিকে রুমে নিতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ স্যারের অনুমতি লাগবে। পরে বিষয়টি নিয়ে নওশাদ ও রাতিকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রাতিক চিৎকার করে বলেন, ‘আমাকে তুই চিনিস, আমি এই হলের নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। আমি যা করতেছি শুধু দেখ, একটাও বাধা দিবি না। তোকে এখানে কে রেখেছে? তোকে লাথি মেরে এখান থেকে বের করে দিবো।’

ওই সময় প্রহরী নওশাদ রাতিকের রুম নম্বর জানতে চান। তখন রাতিক ক্ষেপে গিয়ে নওশাদকে কিল-ঘুষি মারতে মারতে বলেন, ‘আমি কত নম্বর রুমে থাকি, পারলে আমার সঙ্গে এসে দেখে যা। আমার কাছে জানতে চাচ্ছিস কেন?’

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে রাতিক বলেন, ‘হল প্রহরীকে কোনো মারধর করা হয়নি। আমার এক ভর্তি পরীক্ষার্থীর বড় ভাইকে রুমে নিয়ে যাচ্ছিলাম। ওই সময় হল প্রহরী আমাকে বাধা দেন। তাকে আমার পরিচয় দেই এবং প্রভোস্টের অনুমতি নেওয়া আছে বলে জানাই। তবুও তিনি আমাকে যেতে বাধা দেন। তাই ওনাকে ধাক্কা দিয়ে আমার গেস্টকে আমি রুমে নিয়ে আসি।’

মারধরের শিকার নওশাদ জানান, ভর্তি পরীক্ষার সময় হলে পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো অতিথি রাখার অনুমতি নেই। এ বিষয়ে হলে নোটিশও দেওয়া হয়েছে। প্রাধ্যক্ষ স্যারের অনুমতির কথা বললে রাতিক তাকে মারধর করেন।

মাদার বখশ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবদুল আলিম বলেন, ‘গেস্ট রাখার জন্য কেউ আমার কাছে অনুমতি চায়নি। মারধরের বিষয়টি আমি শুনেছি।’