আমাদের টাকার বড় দরকার: ইমরান খান

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৯:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিদেশী কোনো মিডিয়ার সাথে প্রথম সাক্ষাৎকারে ইমরান খান সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাশোগির ‘মর্মান্তিক’ মৃত্যু, তার দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ক্ষমতায় আসার দুই মাস পর ইসলামাবাদে ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিনিধি কিম সেনগুপ্তাকে দেয়া সাক্ষাৎকারটি সংক্ষেপে নিচে তুলে দেয়া হলো।

ইমরান খান রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দিতে দেশটিতে যাচ্ছেন। ইস্তাম্বুলে সৌদি কন্স্যুলেটের ভেতরে সাংবাদিক খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় ভয়াবহ সঙ্কটে নিপতিত হয়েছে সৌদি আরব। অনেক দেশ ও সংস্থা ‘ডিজার্ট ডেভোস’ নামের এই সম্মেলন বর্জন করার মধ্যে ইমরান খান দেশটিতে যাচ্ছেন।

অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্মেলন বর্জন করার উপায় নেই; কারণ সৌদি উদার সহায়তা দেশটির জন্য খুবই জরুরি। পাকিস্তানের দুই প্রধান অর্থ জোগানদাতা মিত্র চীন ও সৌদি আরবকে খুশি রাখতে না পারলে বেইল আউটের জন্য কঠোর শর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হতে হবে দেশটিকে। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর এটি হবে ১৩তম বেইল আউটের ঘটনা।

সৌদি সফরে যাওয়ার বিষয়ে ইমরান বলেন, ‘আমি শুধু এইটুকুই বলতে পারি, তুরস্কে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা সবাই এতে মর্মাহত। আমি সেখানে যাচ্ছি, কারণ আমাদের ২১ কোটি জনসংখ্যার দেশটির ইতিহাসে এখন সবচেয়ে মারাত্মক ঋণ সঙ্কট বিরাজ করছে।’

ইমরান বলেন ‘আমাদের টাকার বড় দরকার। আমরা আইএমএফের অন্তর্ভুক্ত মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ না পেলে ঋণ পরিশোধ অথবা পণ্য আমদানি করার মতো কোনো বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের হাতে থাকবে না। তাই বিদেশ থেকে ঋণ না পেলে অথবা বিনিয়োগ না এলে তা আমাদের জন্য সত্যিকার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।’

সাবেক ক্রিকেট ক্যাপ্টেন দেশটির সাধারণ নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। তিনি একই সাথে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও মধ্যপ্রাচ্যের অপর দু’টি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। তার একজন স্টাফ বলেন, ‘ইমরান খান দারিদ্র্যবিমোচন ও সামাজিক বৈষম্য নিরসনের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

কিন্তু খাশোগির মৃত্যু নিয়ে রিয়াদের সাথে আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের যে টানাপড়েন চলছে, সে ব্যাপারে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র ও একটি বৃহত্তম মুসলিম দেশ পাকিস্তানও কি এই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ দেখতে চায়?

ইমরান কি বিষয়টি যুবরাজ প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের কাছে উত্থাপন করবেন? অনেকেই এ ঘটনার সাথে তিনি জড়িত বলে সন্দেহ করছেন। অথবা খাশোগি ‘মারামারির সময় মারা গেছেন’ বলে সৌদি বয়ান কি বিশ্বাসযোগ্য?

এসব প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, ‘আমি সম্ভবত সম্মেলনের সময় যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সাথে দেখা করব। অনেক ফোরামে এই প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছে এবং কী ঘটেছে তা প্রকাশ করতে সৌদি সরকারকে চাপ দেবো। আমি শুনেছি, তারা বলেছে, কথাকাটির সময় মারামারিতে তিনি মারা গেছেন, তবে তাদেরকে এ ব্যাপারে একটি সদুত্তর দিতে হবে।’

ইসলামাবাদে ইমরানের বাসভবনে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়। রাজনীতিতে নামার ২২ বছর পর ক্ষমতায় আসা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, ‘আমি ২১ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি। একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় যে জিনিসটি দরকার তা হলো আত্মবিশ্বাস যে, সে খেলায় জিততে যাচ্ছে।

সব সময় বলের দিকে নজর রাখতে হবে এবং তার দিকে সরাসরি ব্যাট ধরতে হবে।’ ট্রাম্প সম্পর্কে তার মত প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী না হলে আমার অভিমত জানাতাম। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণে অনেক বেশি দায়িত্ব রয়েছে। ক্রিকেটের ভাষায় বলতে পারি, বলটা না খেলাই ভালো।’

বর্তমানে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বেশ খারাপ যাচ্ছে। তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন গ্রুপের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পাকিস্তানকে হুমকি এবং সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়ে এসব গ্রুপ আফগানিস্তানে মার্কিন ও তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে হামলা চালা্েচ্ছ। পাকিস্তান এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।

ইমরান খান বলেন, আমেরিকা পাকিস্তানের বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, তার দেশ উপজাতীয় অঞ্চলে সন্ত্রাসী নিরাপদ আশ্রয়ের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে দেশে তিক্ত বিদ্রোহে হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমেরিকা বা কারোর চাপে পাকিস্তান আর কখনোই নিজ জনগণের বিরুদ্ধে সেনা ব্যবহার করবে না।

দেখুন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র কী পাঁকে জড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক নিষ্পত্তিই উত্তম সমাধান। ১০ বছর আগে এই কথা বলায় আমাকে বলা হলো ‘তালেবান খান’। তালেবানের সমর্থক। অবশেষে আমেরিকা ও আফগান সরকার তালেবানের সাথে এমন সমাধানের কথা বলতে শুরু করেছে। আগে তারা এমনটি চায়নি।” আর কাতারে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরুও হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সামরিক বাহিনী ইমরান খানকে ক্ষমতায় এনেছে। একজন উপস্থাপক পি জে মির বলেছেন, ‘এটি একটি সেনারাষ্ট্র। দেশে গণতন্ত্র নেই। আমরা আমাদের স্বভাব মতো চলি। রাস্তার লোকেরা গণতন্ত্র বোঝে না, তারা চায় শক্তিশালী সরকার।’

ইমরান বলেন, ‘সেনাপ্রধানের মর্জিতেই রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকার বিষয় নির্ভর করে। জেনারেল বাজওয়ার নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রপন্থী প্রতিষ্ঠান। তারা যেভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে, তারই আলোকে আমি এ মন্তব্য করছি।’

ইমরান কত দিন ক্ষমতায় থাকবেন তা পরিষ্কার নয়। এই দুই মাসে দু’টি উপনির্বাচনে তার দল হেরেছে। খাশোগি হত্যা নিয়ে সৌদি আরব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ক্ষোভ-আলোচনা চলার মধ্যে তিনি দেশটি সফরে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি পাকিস্তানের ভবিষ্যতের জন্যও ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্র : ইন্ডিপেন্ডেন্ট