আমার ভাইটা টিচার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, এটাই তার অপরাধ…

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫২:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯
ঢাবির শিক্ষিকা শান্তা তাওহিদার সঙ্গে আত্মহত্যা করা ছোট ভাই সাইফুর রহমান প্রতীক

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মো. সাইফুর রহমান প্রতীক নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন প্রতীক।

গতকাল সোমবার (১৪ জানুয়ারী) বিকালে নগরীর কাজলশাহ এলাকার একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

প্রতীকের আত্মহত্যার জন্য শাবির জিইবি বিভাগের শিক্ষকদের দায়ী করেছেন তার বড় বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষক শান্তা তাওহিদা।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমার কলিজার টুকরা আমার আদরের একমাত্র ভাই আমার প্রতীক আর নাই… শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগকে আমি ছাড়ব না, অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া ছেলেটাকে বিভিন্ন ইস্যু বানিয়ে মাস্টার্সে সুপারভাইজার দেয় নাই। বিভিন্ন কোর্সে নম্বর কম দিয়েছে! আমার ভাইটা টিচার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল এটাই তার অপরাধ… গত ছয় মাস ধরে ডিপার্টমেন্ট তিলে তিলে মেরে ফেলেছে আমার ভাইকে…আমার কলিজার টুকরা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে কাল সুইসাইড করেছে… আমার কলিজার টুকরা ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচব? ভাইরে আমি আসতেছি তোর কাছে ভাই…’

আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমার ভাইটারে গত মাসেও আমি জিজ্ঞেস করেছি আমি কি তোর বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করব? আমার ভাই বলছে- আপু আমি জিআরআই দিয়েছি আপু, আমি ইউকে চলে যাব, আমার তো রেফারেন্স লাগবে! শিক্ষকরা ভয় দেখাইছে কিছু করলে রেফারেন্স লেটার দেবে না… আমার ভাইরে মেরে ফেলছে ওরা… আমি কই পাব আমার টুকরারে আমি কই পাব?’

এদিকে প্রতীকের পরিবারের দাবির সঙ্গে একমত তার ডিপার্টমেন্টের সহপাঠীরাও। তারাও প্রতীকের মৃত্যুর জন্য শিক্ষকদের দায়ী করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তার (প্রতীক) পরিবারকে জানানো হয়েছে। সবার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকা বা দেশের বাইরে থেকে এখানে লাশ রেখে পরিবারের লোকজনের এ রকম দাবি করা উচিত বলে আমি মনে করি না।’