আমার লজ্জা লাগে নিজেকে রাজনীতিবিদ বলতে: শামীম ওসমান

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০৩:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৮

মঙ্গলবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় রওশন আরা ডিগ্রি কলেজের নব নির্মিত ৪ তলা একাডেমিক ভবন ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মারার জন্য বিশ বার চেষ্টা করা হয়েছে। শেষে গ্রেণেড হামলাও করা হয়। কে করেছে? খালেদা জিয়া এবং তার দল। ২১ শে আগষ্টের গ্রেনেড হত্যা মামলার রায়ে তা প্রমাণ হয়েছে। এই দেশে আবার ওই দল রাজনীতিও করতে চায়, আমার লজ্জা লাগে।

আমার লজ্জা লাগে নিজেকে রাজনীতিবীদ বলতে। তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ৩১ বছর বয়সে দেশের হাল ধরেছেন। কী দিয়েছি আমরা তাকে? আমরা তার বাবাকে, মাকে, ভাইকে সবাইকে মেরে ফেলেছি। কে ছিল ওনার বাবা? যে দেশকে স্বাধীণ করার জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। বছরের পর বছর জেলে থেকেছে। তাকে আমরা মেরে ফেলেছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, আমি তোমাদের আওয়ামীলীগ বা বিএনপি কোন দলই করতে বলবোনা। আমি শুধু তোমাদের বলবো তোমরা দেশকে ভালোবাসো। নিজের দেশকে ভালোবাসলে তোমরা নিজেরাই বুঝতে পারবে কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল।

এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করতেও শিক্ষার্থীদের উপদেশ দেন তিনি। এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদেরকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক যে বিক্রি করে সে যত বড় প্রভাবশালী এবং যে রাজনৈতিক দলেরই হোকনা কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। এসময় তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে চেয়ে তা সমাধানের আশ্বাস দেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রওশন আরা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রওশন আরা বেগম, জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাষ্টার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক আব্দুল মতিন প্রধান, নাসিক ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান, থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক আমিনুল হক রাজু, যুবলীগ নেতা মহসীন ভূঁইয়া প্রমূখ।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান অভিযোগ করেছেন, মন্ত্রীর পা ধরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের কাজ শুরু করা যায়নি। তিন বছর চেষ্টা করে চাষাড়া থেকে আদমজি পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করতে পারিনি। ওই রাস্তাটি হলে ছয় লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবেন। জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওই সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর পরিকল্পনামন্ত্রীর সাথে আলাপ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে গতকাল সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, রাস্তাটি আগে রেলওয়ের ছিল। রেলওয়ের কাছ থেকে অবমুক্ত করতে দুই বছর সময় লেগেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজে সেখানে গেছেন। তিনি রেলমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন।

পরে তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ওই রাস্তাটির কাজ দ্রুত শুরু হবে। মন্ত্রী ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ছিলেন। ডিপিপিতে কিছু ত্রুটি থাকায় পরিকল্পনা কমিশন তা ফেরত দিয়েছিল।

ত্রুটি সংশোধন করে আবারো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি চার থেকে পাঁচ মাস হয়ে গেছে। এরপর আমি পরিকল্পনামন্ত্রীর পায়ে ধরে অনুরোধ করেছি। তার পায়ে ধরতে আমার একটুও খারাপ লাগেনি। কারণ আমি তার পা ধরেছি জনগণের জন্য। তারপরও কাজ হয়নি। এখন আমার করণীয় কী?

জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ওই সড়ক প্রশস্তকরণের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জে জনসভা শেষেই সেখান থেকে রেলপথমন্ত্রীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করি। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। পরিকল্পনা মন্ত্রীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে ওই সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বেগম হাজেরা খাতুনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত গত ৩৭ বছরে ৯১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার লেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের ৯ বছরের শাসনামলে ৩৭৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার লেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে ১০১ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, উন্নত খাতের আওতায় তিন হাজার ৯৩০ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতিকরণসহ চার হাজার ৫৯১ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮৪২টি সেতু ও তিন হাজার ৫৪৬টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, প্রবেশ ও নির্গমন মহাসড়কের যানজট নিরসন এবং ঢাকা ও পাশের এলাকার জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাস র্যাপিট ট্রানজিট (বিআরটি) ও মেট্রোরেল (এমআরটি) প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া ঢাকার চার পাশে ও পাশের এলাকার জন্য ইনার সার্কুলার রুট এবং মিডল সার্কুলার রুটের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ৬০ এর ৩(৫) ধারায় নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো যাবে না মর্মে উল্লেখ রয়েছে।

নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি থামানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পেশাজীবী গাড়িচালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তা ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট, পোস্টার ও স্টিকার বিতরণ করা হচ্ছে।

বেগম হাজেরা খাতুনের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৮৪২টি সেতু এবং তিন হাজার ৫৪৬টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করেছে।