‘আমার ৪০ বছরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে আজ’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ১:৩১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৮
সংগৃহীত

আজ (বুধবার) রাজধানীর চাঁনখারপুলে ৫০০ শয্যার জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ সব কথা বলেন।

‘সুদীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ দিনটির জন্য স্বপ্ন দেখেছি। অপেক্ষার প্রহর গুনেছি, স্বপ্ন বাস্তবায়ন দেখার জন্য। আজ সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেখে আমি ভীষণ আনন্দিত। স্বপ্নের বার্ন ইনস্টিটিউটে কোনো রোগী যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় সেদিকে প্লাস্টিক সার্জনসহ সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।’

সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘৭১ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুচিকিৎসার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫ শয্যার বার্ন ওয়ার্ড চালু হয়।

জাতির পিতা ৫ শয্যার মাধ্যমে যে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ৫০০ শয্যার বার্ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই বীজ আজ বটবৃক্ষ রূপে প্রকাশ পেয়েছে।’

সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দুই একর জমির উপর ৯১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ অত্যাধুনিক এ বার্ন হাসপাতালটি উদ্বোধনের ফলে হাজার হাজার পোড়া রোগীর সুচিকিৎসার নবদিগন্ত উন্মোচিত হলো। শুধু রোগীরা নন, তাদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এ প্রতিষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ৫০০ শয্যার ‘শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ উদ্বোধন করেন। তার নামেই এ হাসপাতালটির নামকরণ করা হয়।
২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ ইনস্টিটিউট নির্মাণের অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁনখারপুলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর নির্মাণ কাজ শুরু করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৮তলা বিশিষ্ট এ ইনস্টিটিউটটির মাটির নিচে তিনতলা বেজমেন্ট। সেখানে গাড়ি পার্কিং ও রেডিওলজিসহ আরও কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভাগ রাখা হচ্ছে। ইনস্টিটিউটটিতে ৫০০টি শয্যা, ৫০টি ইনসেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার ও অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থাকবে।

আকাশছোঁয়া এ ভবনটি তিনটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। একদিকে থাকবে বার্ন ইউনিট, অন্যদিকে প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আর অন্য ব্লকটিতে করা হবে অ্যাকাডেমিক ভবন। দেশে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি হাসপাতালে হেলিপ্যাড সুবিধা রাখা হচ্ছে।