আ’লীগ কার্যালয়ের টিভি চুরির অপবাদে যুবককে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতন (ভিডিও)

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১২:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০১৯
ঝিনাইদহে যুবককে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতন;ছবিঃবাংলাদেশ টুডে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-ঝিনাইদহে টেলিভিশন চুরির অপবাদ দিয়ে রানা নামে এক যুবককে গাছে ঝুলিয়ে বেদম মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর (শুক্রবার) হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে নির্যাতিত রানার বাবা কৃষক ওমর আলী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, গত ২৭ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে একটি টেলিভিশন চুরি হয়। পরদিন সকালে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান তুহিন গ্রামের কৃষক ওমর আলীর ছেলে রানাকে চোর সন্দেহে মাঠ থেকে ধরে আনে। পরে শ্রীপুর বাজারের একটি কাঁঠাল গাছে হাত পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেদম মারধর করেন। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করেন। পুলিশ হরিণাকুণ্ডু থানায় এনে তাকে নিয়ে টিভি উদ্ধারে গেলেও টিভি উদ্ধার করতে পারেনি। পরে পুলিশ রানাকে তার পরিবারের জিম্মায় ফেরত দেয়।

রানা গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) সকালে ওই নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তাহেরহুদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজের আলী জানান, ভোটের দুই দিন আগে ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে মাঠে কাজ করছিল রানা। এসময় শাহিনুর রহমান তুহিন নামের এই আওয়ামী লীগ নেতা টেলিভিশন চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে নিয়ে আসে। এরপর গ্রামের একটি গাছে ঝুলিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করে। ঘটনার দিন আমি এলাকায় ছিলাম না।

স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি আরো জানান, নির্যাতনের পর পরিবারের সদস্যরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে।

রানার পিতা ওমর আলী জানান, আমার ছেলে কোন চুরির সাথে জড়িত না। তাকে অন্যায় ভাবে মারা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শাহীনুর রহমান তুহিন বলেন, ভোটের ৫ দিন আগে নির্বাচনি ক্যাম্পের টিভি চুরি হয়ে যায়। এসময় আমরা জানতে পারি রানা টিভি চুরি করেছে। কিন্তু উদ্ধার না হওয়ায় আমি তাকে সামান্য মেরেছিলাম। তাকে আমি চিকিৎসাও করিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিষয়টা ভিন্নভাবে তুলে ধরে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) তারেক আল মেহেদী বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি অমানবিক।

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ভোটের কয়েকদিন আগে স্থানীয় আওয়াম লীগ নেতা তুহিন রানা নামের এই ব্যাক্তিকে ধরে থানায় এনেছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনি অফিস থেকে টেলিভিশন চুরি করেছে। সে সময় আমরা তাকে টেলিভিশন উদ্ধারের জন্য চেষ্টাও করেছিলাম কিন্তু না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় তাকে ফেরত দেওয়া হয়। এরপর কি হয়েছে আমার জানা ছিল না।