আ’লীগ সরকারে এলেও চাকরিহারা সেই পূর্ণিমা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ১:২৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯
সংগৃহীত

২০০১ সালের নির্বাচনের পর সিরাজগঞ্জে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ১৪ বছরের কিশোরী পূর্ণিমা শীল। গত বছর তাকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তার চাকরি দিয়েছিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এ বছরের জানুয়ারি মাসে তার চাকরির বয়স হয়েছিল ১১ মাস। কিন্তু সেই চাকরিটি এখন আর নেই।

গত ৩০ ডিসেম্বর নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো যে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ, সেখানে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বাদ পড়েছেন। সেই সঙ্গে চাকরিও হারিয়েছেন পূর্ণিমা শীল। জীবন-জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও চাকরি খুঁজছেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায় আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন সিরাজগঞ্জের স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা। ধর্ষণকারীরা ছিলেন চারদলীয় জোটের সমর্থক।

২০১১ সালের ৪ মে এই ধর্ষণ মামলায় ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। পরবর্তীকালে পূর্ণিমা পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় গান শিখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তারানা হালিম প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারিতে পূর্ণিমাকে চাকরি দেন।

সে সময় তারানা হালিম নিজের ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘মনে পড়ে সেই পূর্ণিমাকে? ২০০১-এর ১ অক্টোবর নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপি-জামায়াতের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ১৪ বছরের মেয়েটি।

হ্যাঁ, আমি সিরাজগঞ্জের সেই পূর্ণিমা শীলের কথা বলছি। আজ আমি গর্বিত আমি পূর্ণিমাকে আমার ‘পার্সোনাল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দিলাম। পূর্ণিমা তোমাকে আমরা ভুলে যাইনি। জীবনের অন্ধকার রূপ তুমি দেখেছ, আলোর জগতে তোমায় স্বাগতম… শুরু হোক নতুন পথচলা। তোমাকে অভিবাদন প্রিয় পূর্ণিমা।’

মাত্র ১৪ বছর বয়সে রাজনৈতিক বর্বরতার শিকার হয়েছিলেন পূর্ণিমা। সমস্ত সামাজিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একাই লড়ে এগিয়েছেন সামনে। তারানা হালিম পূর্ণিমাকে চাকরি দিয়ে আশার আলোর সন্ধান দিলেও তা টেকিনি বেশি দিন।

সোমবার সন্ধ্যায় ফোনে কথা হয় পূর্ণিমা শীলের সঙ্গে। তিনি জানান, ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রীদের শপথ হয়। আগের দিন ৬ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম অফিস থেকে বিদায় নেন। সে দিনই তিনিসহ আরও যারা রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, তারা সবাই বিদায় নেন।

কোনো মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা আওয়ামী লীগের কোনো নেতা তাকে এ ব্যাপারে কিছু বলেছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু একটা করে তো বেঁচে থাকতে হবে। চাকরি খুঁজছি, এখনো পাইনি।’সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, পূর্ণিমা আর অফিসে আসেন না।

তার সাবেক সহকর্মীরা জানান, পূর্ণিমা ‘পলিটিক্যাল প্রিভিলেজ গ্রুপ’, মানে রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। এখন প্রতিমন্ত্রী নেই, তাই পূর্ণিমার চাকরিও নেই। যে রুমে তিনি বসতেন সে রুমটিতে তালা লাগানো দেখা যায়।

মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ সম্পর্কিত বিষয় দেখাশোনা করেন একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নজরুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ উনি এ মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এখন নেই। এর বেশি আমি জানি না।’