“আশরাফ তণয়া রীমা ইসলামকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এম.পি হিসেবে দেখতে চাই”

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১১:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯
আশরাফ তনয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ঢেউ, ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে হারিয়েছেন মা-বাবা দু’জনকে। হয়েছেন বাকরুদ্ধ, স্বজন হারানোর ব্যথায় কাতর। আপনজন হারিয়ে চারপাশে যেন কেবলই শূন্যতা। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সদ্যপ্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে সৈয়দা রীমা ইসলাম কীভাবে সইবেন এ শোক- এ প্রশ্ন স্বজনসহ সবার।

তবে লন্ডনপ্রবাসী রীমা দেখেছেন তার বাবার প্রতি দেশের মানুষের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এ থেকেই ভাবছেন দেশে ফিরে আসার কথা। মনকে শক্ত করে কাটিয়ে উঠতে চান শোক। লন্ডনের কর্মস্থলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ভাগ্য সম্ভবত একেই বলে। যিনি কোনো দিন রাজনীতির ত্রিসীমানায় আসেননি, ভাগ্য তাকে প্লাবনের মতো ভাসিয়ে এনেছে রাজনীতির প্রচার স্রোতে। প্রতিদিন প্রতিমুহূর্ত স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থনে সিক্ত হচ্ছেন সৈয়দ আশরাফ তনয়া রীমা। পিতার মতোই তিনিও হয়ে উঠছেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী রাজনীতির আইকন।

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর পর থেকেই পলিটিক্যাল স্পটলাইটের আলো এসে পড়ে তার একমাত্র কন্যা সৈয়দা রীমা রহমানকে ঘিরে। শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি রীমাকে সৈয়দ আশরাফের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রূপে দেখতে চায় কিশোরগঞ্জের মানুষ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীমার সমর্থনে আশরাফ ভক্তদের অকুণ্ঠ সমর্থন সঞ্চারিত হয়। ফেসবুকের নিউজ ফিড, ওয়াল, পেজ, গ্রুপ ভেসে যায় আশরাফ ও রীমার ছবিতে। সৈয়দা রীমাকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করার জন্য দাবি জানাতে থাকে হাজার হাজার মানুষ।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে রীমা এক অভূতপূর্ব শিহরণ ও জনসমর্থন জাগানিয়া চরিত্রে আবির্ভূত হয়েছেন। কোনো আগ্রহ প্রকাশ না করে এবং সামান্যতম ক্যাম্পেইন না করেও এমন সমর্থনের প্লাবন সচরাচর দেখা যায় না। প্রকাশ্য বা আকারে-ইঙ্গিতে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ না করেও যে এতো বিপুল জনসমর্থন পাওয়া যায়, তার প্রমাণ সৈয়দ আশরাফ তনয়া রীমা। বিপুল জনপ্রিয় পিতার সকল অর্জন ও সুকীর্তির প্রতিনিধি রূপে জনমানুষ তাকে রাজনীতির মাঠে সম্মিলিত কণ্ঠে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া, বড় হওয়া এবং সেখানকার এক বহুজাতিক ব্যাংকে উচ্চপদে কর্মরত সৈয়দা রীমা ইসলাম আদৌ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসে অংশ নেবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত না হলেও সমর্থকরা তার প্রার্থিতার পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রকাশ করেছেন রঙিন পোস্টার ও প্রচারপত্র।

আশরাফ তনয়া রীমা সমর্থকরা বলছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতির সাহসী, স্বচ্ছ ও শুদ্ধ নেতা সৈয়দ আশরাফের একমাত্র বংশধর হিসাবে রীমা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। সৈয়দ আশরাফের রক্ত ও ঐতিহ্যের উত্তরসূরি রীমা। একমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব গোপালগঞ্জের পর আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় দুর্গ কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের ঐক্য ও শক্তি অটুট রাখা। নচেৎ দলের ঐক্য ও শক্তিতে ফাটল ধরতে পারে।’

ভাগ্যের অনিশ্চিত খেলায় তরুণী রীমা পিতা-মাতার মৃত্যুর পর এতিম হয়েও পেয়েছেন লাখো মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন। রাজনীতি থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও হয়েছেন রাজনীতিক প্রচারণার মধ্যমণি। সে তরুণীকে ভাগ্য শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যায়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে দেশে এসে রীমার রাজনীতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। রাজনীতিতে আসার বিষয়ে, রীমা ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এখনই এমন কিছু চিন্তা করেননি তারা। মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরিবারে এ নিয়ে তেমন কোনো আলাপও হয়নি।

এ বিষয়ে রীমা ইসলামের চাচা সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম বলেন, আমাদের পরিবারের অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যদি চান, আমাদের পরিবার থেকে কিশোরগঞ্জ-১ এ কাজ করার সুযোগ দেবেন।

তবে, শেখ হাসিনা যেভাবে চান সেভাবেই হবে বলেও জানান সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে এবং আমাদের পরিবার যতদিন থাকবে ততদিনই আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকতে চাই।