ইরানের সাথে যুদ্ধ চাই না: মার্কিন কমান্ডার

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ১২:১৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৮

ইরানের সাথে আমেরিকা যুদ্ধ চায় না বলে দাবি করেছেন আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জোসেফ ভোটেল। বৃহস্পতিবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জেনারেল ভোটেল বলেছেন, ‘আমেরিকা এই মুহূর্তে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। আমি এ পদ্ধতিকে সমর্থন করি। কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না’।

চার তারকা জেনারেল জোসেফ ভোটেল এ বক্তব্য দিলেও কোনো কোনো মার্কিন নেতা মাঝে মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নানা উপায়ে ইরানের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে।

জেনারেল জোসেফ ভোটেল ২০১৬ সাল থেকে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর উগ্র জঙ্গিরা ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহওয়াজ শহরে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ চলাকালে সন্ত্রাসী হামলা চালায় যাতে ২৯ জন নিহত এবং অপর ৬৯ জন আহত হন।

ওই সন্ত্রাসী হামলার জন্য আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে দায়ী করেছে ইরান।

ইরান বলেছে, আমেরিকার দিকনির্দেশনায় এ হামলা চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ‘ইরান পরমাণু সমঝোতা’ থেকে একতরফাভাবে সরে গেছে।

২০১৫ সালে পাশ্চাত্যের ছয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে ইরানের পরমাণু চুক্তি হয়। এই চুক্তি কোন ভুল সিদ্ধান্ত ছিলনা বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ।

আল-জাজিরার `আপফ্রন্ট’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক মেহেদি হাসানের সাথে সাক্ষাতে মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, বরং চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

জাভেদ জারিফ বলেন, ইরান পরমাণু চুক্তি হচ্ছে সবচেয়ে ভালো, যা থেকে আমেরিকা উপকৃত হতে পারতো, ইরান উপকৃত হতে পারছে এবং এটা থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উপকৃত হতে পারে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি দেশটির ওপর আমেরিকার ক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসলামি বিপ্লব ও বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি শাসনব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের আগে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন আমেরিকা সেটা করতে না পেরে তারা ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছে।

খামেনেয়ি আরো বলেন, সামরিক দিক দিয়ে আমেরিকা ইরানের সঙ্গে পেরে না উঠে শেষ আশ্রয় হিসেবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমাদের জাতীয় অর্থনীতির চেয়ে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অনেক বেশি ভঙ্গুর।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নিজস্ব অর্থনীতির ওপর ভর করে আমরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অকার্যকর করে দেব। ওয়াশিংটন গত ৪০ বছরে ইরানের হাতে বহু ক্ষেত্রে চপেটাঘাত খেয়েছে। এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ করে দেয়ার মাধ্যমে ইরানি জনগণ আরেকবার আমেরিকার গালে চপেটাঘাত করবে।