উড়াল সেতুর বৈদ্যুতিক তার চুরি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ | আপডেট: ১১:০৪:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯
সংগৃহীত

চালু হওয়ার এক বছরের মাথায় চুরি হয়ে গেছে মালিবাগ-মগবাজার উড়ালসড়কের বৈদ্যুতিক তার। এ কারণে নয় কিলোমিটার এই উড়ালসড়কে রাতে একটি বাতিও জ্বলছে না। ফলে রাতের বেলায় যানবাহন চালানো একদিকে হয়ে গেছে ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।

কেবল আলো জ্বলছে না এমন নয়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিকল হয়ে আছে উড়ালসড়কের ওপর মৌচাক ও মালিবাগ মোড়ের সংকেত বাতিও। সেখানে থাকে না ট্রাফিক পুলিশও। ফলে নিজ দায়িত্বে মোড় ঘুরতে হয় গাড়িচালকদের।

২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর এই উড়ালসড়ক পুরোপুরি চালু হয়। এর আগেও দুই ধাপে চালু হয় দুটি লুপ। এটি চালু হওয়ার পর মগবাজার ও আশপাশের এলাকার যানজট নিরসন হয়েছে। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।

উড়ালসড়কটি নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। তবে চালুর পর গত অক্টোবরের শেষ দিকে সেটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। তবে এই তার চুরির কোনো দায় নিচ্ছে না তারা। আর তার কবে চুরি হয়েছে, সেই বিষয়টিও জানে না তারা। পুলিশের কাছেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

সরকারি সম্পদ হাতছাড়া হয়ে গেলেও মামলা করেনি সিটি করপোরেশন। আর পুলিশের নিজে থেকেও তদন্তে কোনো আগ্রহ নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এ এস এম মুরাদ আলী বলেন, ‘এই ফ্লাইওভারটি সিটি করপোরেশনের আওতায়। এটি দেখার দায়িত্বও সিটি করপোরেশনের। আমাদের এখতিয়ারে না।’

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তা ছাড়া এমন কোনো অভিযোগও আমার কাছে আসেনি।’

এ বিষয়ে জানতে উড়ালসড়কের দায়িত্বে থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানান।

গত জুন মাসে উড়লসড়কটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ৫০টি সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। এর আগে চুরি হয়েছে নাকি ক্যামেরা স্থাপনের পর খুলে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংকেত বাতি বিকল প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এ এস এম মুরাদ আলী বলেন, ‘এখানে সিগন্যাল বাতি না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

তবে কবে নাগাদ এই সিগন্যাল বাতি ঠিক হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।