একটি ব্রীজ হাসি ফোটাতে পারে হাজারো কৃষকের মুখে

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৪৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

এম.মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:  একটি ব্রীজ রাজবাড়ীর দুই উপজেলার সংযোগ ঘটানো ছাড়াও হাসি ফোটাতে পারে হাজার হাজার কৃষকের মুখে। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রীজ নির্মান হচ্ছে না বছরের পর বছর। রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকৌশলী জানালেন, এটা ডেবোলপমেন্ট প্রজেক্ট প্লানের আওতায় আনা হয়েছে।

ব্রীজটি নির্মিত হলে হাজারো মানুষের নানাবিধ উপকার হবে। এ বিশাল অ লের কৃষিজাত পন্য ও বিল-হাওড়েরর উৎপাদিৎ মাছ সঠিক মূল্যে বিক্রি হবে,হবে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন। সরোজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বারেক গ্রাম এলাকায় রাজবাড়ী সদর উপজেলা ও বালিয়াকান্দি উপজেলার সংযোগস্থল।

এ দুটি উপজেলার সংযোগস্থলকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ৪৫ মিটারের একটি হরাই নদী। উল্লেখ্য এ নদীর দুই পাশেই রয়েছে পাকা রাস্তা। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বারেক গ্রাম অ লের বাঞ্জারাম মন্ডলের ছেলে কৃষক পরিমল মন্ডল বলেন, এখান থেকে পার্শবর্তী বহরপুর বাজার মাত্র ৪ কিলোমিটার, জামালপুর বাজার ৭/৮ কিলোমিটার অথচ আমাদের উৎপাদিত ফসল বহরপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে ১০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়।

আর জামালপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে ঘুরতে হয় ২৩ কিলোমিটার ও রাজবাড়ী সদরের গেলে পারি দিতে হয় বিশ কিলোমিটার পথ। আমাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অনেক খরচ হয় ফলে আমরা লোকশান গুনছি বছরের পর বছর। আমাদের এ ব্রীজটি হয়ে গেলে কৃষিপ্রধান এ অ লের মানুষের দূর্ভোগ দুর হয়ে হাসি ফুটবে প্রতিটি কৃষকের মুখে।

রাই নদীর ওপারের বাসিন্দা বালিয়াকান্দি উপজেলার পাকালিয়া গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে ভ্যানচালক কহিল শেখ বলেন, আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি এ বারেক গ্রাম এলাকা থেকে বহরপুর বাজার ৪ কিলোমিটার, জামালপুর বাজার ৮ কিলোমিটার, বানিবহ বাজার ৪ কিলোমিটার ও মুলঘর ইউনিয়নের কুটিরহাট বাজার মাত্র ৫ কিলোমিটার।

অথচ আমরা এ অ লের মানুষ এই একটি ব্রীজের কারনে কোনদিনও বানিবহ ও কুটিরহাটে যেতে পারিনা, আর যদি কোন কারন বসত বানিবহ যেতে হয় তবে ঘুরে যেতে হবে ১২ কিলোমিটার আর কুটির হাট যেতে পারি দিতে হয় ১৫ কিলোমিটার। আমাদের প্রানের দাবি এ ব্রীজটি নির্মান করে যুগ যুগান্তরের এ জনদূর্ভোগ দুর করবে সরকার।

কথা হয় বাস শ্রমিক ছিদ্দিকুর রহমান খানের সাথে তিনি জানান, রাজবাড়ী থেকে মধুখালির দুরত্ব ৩৮ কিলোমিটার বারেক গ্রাম এ ব্রীজটি নির্মান হলে রাজবাড়ী থেকে মধুখালির দুরত্ব ১৩কিলোমিটার কমে ২৫ কিলোমিটার হবে।

রাজবাড়ী থেকে বানিবহ হয়ে বাড়ীগ্রাম পারহয়ে মধুখালি যাওয়ার উপযোগী রাস্তা থাকলেও বছরের পর বছর এই একটি ব্রীজ না থাকায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে আমাদের মধুখালি যেতে হয়।বানিবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু বলেন, ৪টি ইউনয়নের মিলনস্থল বাড়ীগ্রাম এলাকা, এ অ ল প্রকৃতির অপরুপ সাঝে সজ্জিত, হাজার হাজার একর আবাদি অনাবাদি জমি রয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে এখানে লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখি আসে। এ ছাড়াও রাস্তার দু’পাশে টুই টুম্বর পানি হয়ে এক অপরুপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে হাজার হাজার মানুষ স্বপরিবারে বেরাতে আসে। নৌকায় ঘুরে ঘুরে যার যার বাহনে বাড়ী ফিরলেও এই একটি ব্রীজের জন্য এপারের মানুষ ওপারে মানুষের সাথে দুরত্ব থাকে অনেক।

আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বারেক গ্রামে দর্শনার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি ব্রেঞ্জ বানিয়ে দিয়েছি। এ ব্রীজের দাবিতে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য কাজী কেরামতের সাথে কথা বলেছি তিনি আশ্বাস দিয়েছেন অচিরেই এ ব্রীজটি নির্মিত হবে। রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকৌশলী স্বপন কুমার গুহু বলেন, এ ব্রীজটি নির্মানের জন্য ইতিমধ্যেই ¡ কাজী কেরামত আলী নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এটা ডিপিপি ভুক্ত করেছি। অচিরেই এ ব্রীজের নির্মান কাজ শুরু হবে।