‘এটা ইন্ডিয়া না হিন্দিয়া?’ ভারত জুড়ে অমিত শাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড়

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ৮:০৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

ভারতের সব প্রান্তের মানুষের মুখের ভাষা যাতে হিন্দি হয়ে ওঠে, তার পক্ষে জোর দিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। শনিবার দিল্লিতে ‘হিন্দি দিবস’ উপলক্ষে অমিত শাহ টুইটারে একটা পোস্ট দেন। সেখানেই তিনি হিন্দি ভাষাই ভারতের ঐক্যকে ধরে রাখতে পারে বলে মত দেন।

এদিকে অমিত শাহের এমন মন্তব্যের পর ক্ষেপে উঠেছে দেশটির সর্বদক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ু। হিন্দি ভাষাকে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ আগে থেকেই চলছিল। কিন্তু অমিত শাহের এই বার্তার পর সেই প্রতিবাদ আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।

এরই মধ্যে বিজেপি সভাপতির ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। নিজেদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান দেখানোর পক্ষে কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের ব্যাপারে পাল্টা আক্রমণ করেছেন ডিএমকে সভাপতি এমকে স্ট্যালিন। মুখ খুলেছেন কর্নাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী ও সিদ্দারামাইয়াও।

প্রথমে অমিত শাহের মন্তব্য ও তার পরে তার টুইট। তা সামনে আসতেই ভারতে আলোড়ন পড়ে যায়। এ নিয়ে তাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন ডিএমকে সভাপতি স্ট্যালিন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।

স্ট্যালিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত অমিত শাহের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া। না হলে ডিএমকে আরেকটি ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেবে। এটা কি ইন্ডিয়া না হিন্দিয়া? ভারতের অর্থ বৈচিত্রের মধ্যেই ঐক্য। বিজেপিশাসিত সরকার এটাকে ভেঙে ফেলতে চাইছে ও তার বিরুদ্ধে যেতে চাইছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্তব্য প্রত্যাহার করুন।

অমিত শাহের মন্তব্য নিয়ে এরই মধ্যে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে কর্নাটকের একাধিক সংগঠন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই স্ট্যালিন বলেন, তামিলনাড়ুর মানুষের রক্তে হিন্দি নেই। আমরা সব সময়ই হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করে এসেছি। রেল, পোস্ট অফিসে নিয়োগ পরীক্ষায় হিন্দির ব্যবহার নিয়েও সরব হয়েছি। আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছি।

এ নিয়ে আরএসএসকে নিশানা করেছে কর্নাটক কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, আরএসএস মানুষকে ভাগ করার জন্য গোপন এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অমিত শাহকে আক্রমণ করেন সিদ্দারামাইয়া। টুইটারে তিনি লেখেন, আমরা হিন্দি ভাষার বিরুদ্ধে নই, কিন্তু, তা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে।

কর্নাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী টুইট করে বলেন, আজ দেশ জুড়ে হিন্দি দিবস পালন করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি ভাষা হিসেবে কবে হিন্দির সঙ্গে কন্নড় ভাষা দিবসও পালিত হবে?

অমিত শাহের মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলেছেন এমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। টুইটারে তিনি লিখেছেন, হিন্দি সব ভারতবাসীর মাতৃভাষা নয়। আপনি কি এ দেশের বহু ভাষার বৈচিত্র ও সৌন্দর্যের প্রশংসা করবেন? সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যেক ভারতীয়কে পৃথক ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতির অধিকার দেয়।