এত কিছুর পরও ব্যার্থ কাদের সিদ্দিকী-জাফরুল্লাহ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০১৯
ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়াই হয়ে গেলো। তিনি এখন কারাগারে। বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তারা নির্বাচনে যাবেন না। কিন্তু সেই নেতারাই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন, হেরেছেনও বিশাল ভোটে। অথচ বেগম জিয়া জেলেই আছেন। কী প্রহসনের রাজনীতি!

দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়া নিজেই নিয়েছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনে বিজয়ী সরকার পাঁচ বছর দেশ শাসন করেছে। খালেদা জিয়া সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন। পারেননি। প্রমাণ হয়েছে তিনি আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপরিহার্য নন। তাকে ছাড়াই সব কিছু হতে পারে।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই ছিল ঐক্যফ্রন্টের মুল লক্ষ। সেই লক্ষেই ঐক্যফ্রন্ট নেতারা খালেদা জিয়াকে জেলের তালা ভেঙে আনবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়াকে ভুলে গেলেও সোচ্চার ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও কাদের সিদ্দিকী। ৭ ডিসেম্বর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে। ২ জানুয়ারি তারিখে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। তবে, তিনি মুক্ত হবেন ন্যায়বিচারের মাধ্যমে। কারও দয়ায় নয়।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি কোনও দয়া চাই না, মুক্তিও চাই না। তার প্রতি সুবিচার চাই। সুবিচার হলেই তিনি মুক্তি পাবেন।

তিনি আরো বলেছিলেন, এই সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে। মৃত্যুর নৌকা ডুবে যাচ্ছে ৩০ তারিখে। এক্ষেত্রে আপনাদের একটি মাত্র কাজ, ভোটকেন্দ্রে আর ভয় নয়। সব ভয় শেষ হয়ে গেছে।

ডা. জাফরুল্লাহ এমন হুঁশিয়ারির ৩ দিন পর কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে অন্যতম নেতা বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, জানুয়ারির ১ তারিখ অথবা ২ তারিখ আমি গিয়ে তালা খুলে খালেদা জিয়াকে বের করে আনবো।

Add Image

তাদের এমন বক্তব্যে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীদের মনে আশার আলো জ্বলে উঠলেও শেষ পর্যন্ত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার কারণে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজা পেয়ে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। সেই থেকেই তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামিকে বিচারিক আদালত ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন।

এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় খালাস চেয়ে খালেদা জিয়া আপিল করেন। এছাড়া কারাবন্দী দুই আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদও আপিল করেন।

অপরদিকে, এ মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া অপর্যাপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তা বৃদ্ধির জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানায় দুদক। এরপর ৩০ অক্টোবর আদালতের ৫ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করার আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

এই মামলার রায় ঘোষণার দিন গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন খালেদা জিয়া।