এনজিওর দায়ের করা মামলায় ‘মা হাজতে’, অনাহারে ৬ মাসের দুধের শিশু

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১ | আপডেট: ৭:৪১:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১

রাজীব প্রধান, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে টি এম এস এস নামক একটি এনজিওর দায়ের করা মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী শাহনাজ পারভীনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তার ৬ মাসের শিশুকে রেখে আসতে হয় থানায়। এদিকে দুধের শিশু মায়ের জন্য কান্না করছে অবিরাম। ঘটনা সুএে জানাযায়,

শাহনাজ পারভীন স্বামীকে সহায়তার জন্য ২০১৭ সালে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামে একটি এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। মাসে ৯ হাজার ৫০০ টাকা করে এক বছরে সুদসহ ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা ছিলো ।

শাহনাজ পারভীন ঋণের পুরো টাকাই পরিশোধ করেছেন। মাঝে ২ কিস্তি দিতে দেরি হয়েছিল, কিন্তু পরে শোধ করা হয়েছে বলে জানাযায় । গতকাল বিকেলে ঐ এনজিওর করা মামলায় তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এমনকি তার ঘরে ৬ মাসের দুধের শিশু আছে বলা হলেও পুলিশ তাতে কর্ণপাত না করে আসামি ধরে নিয়ে আসে শ্রীপুর মডেল থানায়। এরপর থেকে মায়ের জন্য কাঁদছে শিশুটি। এমনই এক অমানবিক নিষ্ঠুরতার চরম মুখোমুখি হতে হলো, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলাধীন মাওনা ইউনিয়নের বারতোপা বাজারের কাপড়ের দোকানি নুরুল আমীনের স্ত্রী শাহনাজকে।

শাহনাজের স্বামী নুরুল আমীন বলেন, এনজিও আমাদের ঋণ পরিশোধের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। তারপরও তারা আমার স্ত্রীর নামে মামলা করে। এ মামলার বিষয়ে আমরা কেউ কিছু জানতাম না। হঠাৎ করে আজ শ্রীপুর থানা পুলিশ গিয়ে আমার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এখন সমস্যা হয়েছে আমার ছয় মাসের শিশু ফাতেমার জন্য। সে এখনো তার মায়ের দুধ ছাড়া কিছুই খায় না। বিকেল থেকেই মায়ের জন্য সে কান্নাকাটি করছে। করোনার মধ্যে এমন খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে হবে ভাবতেই পারিনি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার বলেন, এনজিওর মামলায় আদালতের পরোয়ানা মূলে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং শিশু বাচ্চাটিকে মায়ের সাথে থাকার ও দুধ খাওয়ানোর মতো উপযুক্ত পরিবেশে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

টিএমএসএসের শ্রীপুর-১ শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম বলেন, শাহনাজ পারভীন নামে বর্তমানে আমাদের কোনো সদস্য নেই, তবে আগে ছিলো। তখন আমি এ শাখার ব্যবস্থাপক ছিলাম না। তার কাছে আমাদের কোনো দেনা-পাওনা নেই। তবে তার বিরুদ্ধে কেন মামলা হলো তা আমি বলতে পারব না। আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন বিষয়টি তার জানা থাকতে পারে।

টিএমএসএসের গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান বলেন, মামলা এবং ওই নারীকে গ্রেফতারের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। জরুরিভাবে স্থানীয় ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম বলেন, ঋণের টাকা পরিশোধের পরও মামলা এবং দুধের শিশু রেখে একজন নারীকে গ্রেফতার সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।