এবার কপাল পুড়তে পারে ডজন খানেক মন্ত্রীর

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৫৫:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০১৯
ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে তা নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে চমক দেখানোর পর এবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রেও তেমন কিছুরই প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সোমবার (৭ জানুয়ারি) বিকালে বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এবার নবীন ও প্রবীণের মিশেলে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের চমক থাকবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বয়সের বিবেচনা সহ নানা কারণে ৫৩ সদস্যের বিদায়ী মন্ত্রিসভায় থাকা কিছু কিছু পরিচিত মুখ ঝরে পড়তে পারে।

তবে এ সংখ্যা এক ডর্জনের চেয়ে বেশি নাও হতে পারে। সে জায়গায় এবারের নতুন মন্ত্রিসভায় কিছু তরুণ মুখ ও বিশেষ করে তৃণমূল থেকে দলের দক্ষ ও ত্যাগী কাউকে কাউকে স্থান করে দিয়ে এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে চমকে দিতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের দাবি, চলমান মন্ত্রিসভার সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর আমলনামা শেখ হাসিনার কাছে রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের কর্মকাণ্ডে তিনি সন্তুষ্ট নন এমন মনোভাব পোষণ করেছেন ঘনিষ্ঠদের কাছে।

জানা গেছে, মন্ত্রী-প্রতি ও উপমন্ত্রী সব মিলিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৫ জনের ওপরে হবেন যাদের অতীত কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নন প্রধানমন্ত্রী। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারত কিন্তু কিছু কিছু মন্ত্রীর হাতে বড় ধরনের চলমান প্রকল্প থাকায় এ যাত্রায় নিরাপদ থাকছেন কেউ কেউ। কাজে গতি আসার জন্য অতীতের মতো মন্ত্রণালয় বিভক্ত করে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর চিন্তাও করা হচ্ছে।

আগামীকাল রবিবার (৬ জানুয়ারি) থেকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ফোন করা শুরু হতে পারে বলেও জানায় সূত্রটি।

এদিকে আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কয়েকটি সূত্রের দাবি, এবারের মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেবেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব রাখতে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে যেমন সরকার গঠন করা হয়েছিল কিছুটা সে আদলে এবারও কিছু নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। পরের মেয়াদে তিনি মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে এনেছিলেন প্রবীণ নেতাদের অনেককে। এছাড়া এবারের নির্বাচনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কাউকে কাউকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, জনগণ উন্নয়নের পক্ষে, শান্তির পক্ষে নিজেদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে। এর মধ্য থেকেই মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচিত করবেন আমাদের নেত্রী। বরাবরের মতো এবারের মন্ত্রিসভাতেও নতুন মুখ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন-পুরোনোর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি ভালো মন্ত্রিসভা গঠন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সোমবার (৭ জানুয়ারি) চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ দেওয়া ও শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। আর শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতি পর্যায়ক্রমে শপথ পড়াবেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের।