এমপি বদিকে ‘বয়কট’ ছাত্রলীগের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৮ | আপডেট: ১:০৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৮

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচিত আব্দুর রহমান বদি’র সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের দাবি, টেকনাফ কলেজ জাতীয়করণে কলেজ প্রশাসন এমপি বদির নির্দেশে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল। কিন্তু সংবর্ধনার নামে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সুযোগ সন্ধানীদের এমপি বদির অতিথি বহরে স্থান দেওয়ায় তারা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন।

সোমবার বেলা ৩টায় টেকনাফ কলেজ মিলনায়তনে এই সংবর্ধনার আয়োজন ছিল। সংবর্ধনা শুরুর আগেই এমপি বদির সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে ছাত্রলীগ নেতারা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারা অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেন। ছাত্রলীগের এই ঘোষণায় একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠান বয়কট করে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। টেকনাফ কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কলেজ প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল কলেজ জাতীয়করণ করায় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং সরকারের আরো উন্নয়ন চিত্র প্রচার করার।

কিন্তু এমপি বদি কলেজ প্রশাসনের সাজানো সূচি পরিবর্তন করে নিজের মতো করে একটি সূচি দেন এবং আমন্ত্রিত জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের মূলত এমপি বদির অনুরোধে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ’তিনি আরো বলেন, ‘কলেজের সভাপতি সাংসদ নিজেই। তাই কলেজের যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজন তিনি তার মতো করে নিজের পছন্দের লোকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বাস্তবায়ন করতে চান। তাই কখনো দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা দাওয়াত থেকে বাদ পড়ছেন, বিপরীতে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা আমন্ত্রণ পাচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেরা অনেকটা বিব্রত। ’ছাত্রলীগসহ সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠান বয়কট করায় অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় একটি নিস্তেজ উৎসাহ-আমেজহীন অনুষ্ঠানে। তবে কলেজের ওই অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীশূন্য হলেও বদির সমর্থিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কিছু নেতা, বহিরাগত ও অছাত্ররা শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত চেয়ার দখল করে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাড়ানোর তৎপরতা লক্ষ্যণীয় ছিল। ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার একক ঘোষণায়। সুতরাং, সংবর্ধনা বা অভিনন্দনের একক দাবিদার শুধু প্রধানমন্ত্রী। তবে, কলেজ জাতীয়করণ করায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য এবং আওয়ামী লীগ সরকারের এই মহৎ উদ্যেগের কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়।

কিন্তু, কলেজ প্রশাসনের উদ্যেগে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে এমপি বদির সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাসহ বিএনপি জামায়াত সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ এবং উপস্থিতি ’বেমানান।’ কলেজ প্রশাসনের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা দাওয়াত না পেলেও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এমপি বদির সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও বৌদ্ধ মন্দির হামলা মামলার আসামি মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, এক সময়ের উপজেলা বিএনপির শক্তিধর নেতা পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন জাফর আহমদসহ জামায়াত বিএনপির ডজনখানেক নেতাকর্মী।

সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি কলেজের সংবর্ধনায় নিজের সাথেবিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ায় ছাত্রলীগের অনুষ্ঠান বয়কটে সমর্থন জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম চেয়ারম্যান প্রমুখ।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, ‘নির্বাচনের আগের এই সময়টুকু আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। যে সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অলি গলি নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করছে, ওই মুহূর্তে এমপি বদি জামায়াত-বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নিজের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করছেন।

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গর্হিত এক কাজ। ’তিনি আরো বলেন, ‘এমপি বদির রাজনীতির গোড়াপত্তন আওয়ামী লীগ বা নৌকা নয়। তাই দলীয় নেতাকর্মীরা তার কাছে কোনো পাত্তাই পান না। এ ছাড়া তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার কাছ বার বার অবমূল্যায়িত হয়েছেন এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা তার কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়ে আসছেন। এসব বিষয় হাড়-মাংসে রক্ত শিরায় যাদের আওয়ামী লীগ, তাদের খুব ব্যথিত করে।’

তবে এতদসত্বেও এমপি আবদুর রহমান বদি তাঁর আগের বক্তব্য থেকে কিছুটা হলেও গতকাল ফিরে এসে কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানকে স্মরণ করেছেন। যা আগে তাঁর বক্তব্যে এ রকম শোনা যায়নি বলে এলাকার লোকজন জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোহাম্মদ হোছাইন এ প্রসঙ্গে বলেছেন- ‘আর যাই হবে হোক এতদিন পর আমাদের এমপি বদির মুখে প্রধানমন্ত্রীর নাম অনেকবার মুখে নিতে শুনেছি। এমনকি এমপি বদি তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেছেন, টেকনাফে যা উন্নয়ন হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় হয়েছে। এখানে আমার কোনো অবদান নেই। যার অবদান আমাদের প্রধানমন্ত্রীর।’