এমপি রানার জামিন নামঞ্জুর, অস্ত্রসহ আটক ১০

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ১:৪৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার বিকাল চারটায় এ আদেশ দেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানম। এর আগে সকালে সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়।

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সাংসদ আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আসামিপক্ষের আইনজীবীর জামিন আবেদনের অধিকতর শুনানির আবেদন জানান। আদালত তা আমলে না নিয়ে বিকাল চারটায় জামিন আবেদনের ব্যাপারে আদেশের জন্যে বিকাল চারটা ধার্য করেন। একই সাথে সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় আদালত আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

এদিকে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার আদালতে হাজির হওয়াকে কেন্দ্র চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাদীপক্ষ ও আসামীপক্ষের লোকজন টাঙ্গাইল আদালত চত্বর ও শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় টাঙ্গাইলের পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সকাল থেকেই আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুরের দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কাছে একটি কনফেকশনারীর দোকান থেতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

এছাড়াও আদালত চত্বরের কাছে শামছুল হক তোরনের সামনে থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ মোট আটজনকে আটক করে পুলিশ। এ ব্যাপারে বেলা তিনটার দিকে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার তার সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, আদালতে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার হাজিরাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় এমপি রানা ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪জন আসামি রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।