এরদোগানের চেষ্টায় ঘরে ফিরছে ইদলিববাসী

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০২:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৮

ইদলিবে তুরস্ক-রাশিয়ার ‘নিরাপদ অঞ্চল’ জনমনে স্বস্থি আনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।নিউইয়র্কে তুরস্কের গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ’র সাংবাদিককে গত মাসের শেষে এরদোগান এ কথা বলেছিলেন।

এরদোগান বলেন, কৃতজ্ঞতা এজন্য যে ইদলিবের অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। ‘এমনকি গতকালকেও ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ ঘরে ফিরেছে। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক উন্নতি। আশা করছি এটা অব্যাহত থাকবে।’

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়া শেষে এরদোগান পরে রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানি যান। এরদোগান আশা প্রকাশ করেন যে, জার্মানিসহ আঞ্চলিক মিত্রদেশগুলো সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসবে।

ইদলিবে এখন রাশিয়া ও তুরস্কের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি চলছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে রাশিয়ার বিমান হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেন এরদোগান।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মি. পুতিন আমাদের কথা দিয়েছেন। ‘একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া ও তুরস্ক এই ৪ জাতির সমন্বয়ে সিরিয়া প্রসঙ্গে আমরা ইস্তাম্বুলে বৈঠকে মিলিত হবো।’ ‘আমাদের মধ্যে প্রাথমিক আলাপচারিতা হয়েগেছে। এখন বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক করতে হবে।’

এরদোগানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, আমেরিকা যদি রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের সমঝোতায় শরীক হতে চায় তবে তুরস্কের প্রতিক্রিয়া কী হবে?

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই তিন দেশের নেতারা সমঝোতার বিষয়ে আমেরিকার বক্তব্যে উদ্বিগ্ন নয়।

আমেরিকার কড়া সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, মানবিজ রোড ম্যাপ মেনে চলতে আমেরিকা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

‘ওয়াইপিজি ওই এলাকা ত্যাগ করেনি। ওই এলাকার মুল মালিক সেখানে এখনো যেতে পারেনি। আমেরিকা এখানে ওয়াদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য দেশটির অভ্যন্তরে তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়ার পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের গুরুত্বে কথা বলে এরদোগান জানান যে, তুরস্কের ১২টি, রাশিয়ার ১০টি এবং ইরানের ৬টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে হটাতে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধ বেধে যায়। সেই থেকে গত ৮ বছর ধরে দেশটিতে বিভিন্ন পক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

এদিকে সিরিয়ার ‘ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট’ সশস্ত্রগোষ্ঠী তুরস্ক-রাশিয়ার চুক্তি মানবে না বলে ঘোষণা দেয়ার পর ইদলিবে প্রবেশ করেছে তুরস্কের সেনাবাহিনীর বিশাল একটি বহর।

তুরস্কের অন্তত ৩০টি সামরিক যানে করে শক্তিশালী সেনাবহর ইদলিবে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

গোষ্ঠীটি বলছে, তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না এবং ইদলিব ছেড়ে যাবে না। এমনকি সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে তাদের সশস্ত্র যুদ্ধও পরিত্যাগ করবে না।এ অবস্থায় তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যকার চুক্তি কিছুটা হুমকির মুখে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।