‘এলিট ক্লাবে’ প্রবেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ১২:২৭:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ফাইল ছবি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে টানা তিনবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। সবমিলে চতুর্থ বারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা এখন বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদী সরকারপ্রধানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন।

এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায় থাকা নারীদের ‘এলিট ক্লাবে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড। একইসঙ্গে সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য হওয়ায় দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

চারবার সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মারা গেছেন। জীবিত নারীদের মধ্যে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল। এখন সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নারীদের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন ৭২ বছর বয়সী শেখ হাসিনাও।

জানা গেছে, ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসা শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে না চাইলেও দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে হবে তাকে। নতুন বছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি টানা তৃতীয়বারের মতো এবং বাংলাদেশের চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি।

১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর দলের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম নির্বাচনে অংশ নেন ১৯৮৬ সালে। মিডিয়া ক্যু করে এরশাদের সামরিক সরকার আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দেয়। ওই তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত বিরোধী দলীয় নেতা হন শেখ হাসিনা। পরে স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসেন।

১৯৯৬ সালের ১২ই জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে না পারলেও ভোট বাড়ে আওয়ামী লীগের। সরকার গঠন করে বিএনপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে বসেন শেখ হাসিনা।

এরপর নবম সংসদ নির্বাচন থেকে একাদশ সংসদ পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৪টিতেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয়লাভ করে। এরপর থেকেই বাংলাদেশে ‘দিন বদলের শুরু’ হয়।

দেশের প্রতিটি খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি শুরু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। শেখ হাসিনার জয়রথ চলমান থাকে দশম সংসদ নির্বাচনেও। ওই বছরের ৫ জানুযারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হয়ে টানা দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীত্বের শপথ নেন শেখ হাসিনা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ায় দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ দেশের কয়েকটি দল অংশ নেয়নি। ফলে অনেকেই দশম সংসদ নির্বাচনকে ‘ভোটারবিহীন নির্বাচন’ বলে অভিযোগ করে থাকেন। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মতে, দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় ওই নির্বাচনের বিকল্প ছিল না।

২০১৪ সালের নির্বাচনে পর অনেকেই ভেবেছিলেন, পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করতে পারবেন না শেখ হাসিনা। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চাপের মুখে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেন তিনি।

কিন্তু তাদের সকলের ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন-জ্বালাও পোড়াও মোকাবেলা করে পূর্ণ মেয়াদ সরকার পরিচালনা করেন শেখ হাসিনা। মেয়াদের শেষ দিকে এসে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী জোট আবারও সংসদ ভেঙে নির্বাচনের দাবি জানায়।

কিন্তু সংবিধানের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ বহাল রেখেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য টানা এক সপ্তাহ দেশের সক্রিয় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপে বসেন তিনি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা শুরুতে নানা আপত্তি করলেও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ধারাবাহিক সরকারের অধীনেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষে গতকাল ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশে একাদশ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা বিপুল ভোটের ব্যবধানের জয়ী হয় সারাদেশে।