ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

সিলেট রেজিস্ট্রি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা হলেও সুলতান মো. মনসুর সমাবেশে এসেছিলেন ‘মুজিব কোট’ পরে। সমাবেশে বক্তব্যও শেষ করলেন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার নীতি থেকে সরে আসতে হবে।

বুধবার বিকেলে সিলেট রেজিস্ট্রি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে এভাবেই হাজির হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি এবং আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মো. মনসুর।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইভিএম ব্যাবহার না করা, খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তিসহ সাত দফা দাবিতে সিলেটে এ সমাবেশ আয়োজন করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুলতান মনসুর বলেন, রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতে পারে, মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু মিথ্যা মামলায় বড় একটি রাজনৈতিক দলের নেতা খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে। এটা আমরা মানি না। তাকে মুক্তি দিতে হবে।

পরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করেন সুলতান মো. মনসুর।

সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা ১৫ আগস্ট চাই না, ২১ আগস্টের পুনরাবৃত্তি চাই না, জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা শান্তির বাংলাদেশ চাই তাই আগামী ৪ নভেম্বর বনানী কবরস্থানে গিয়ে ১৯৭৫-এর শহীদদের কবর জিয়ারত করে সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে চাই। সেখান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিককৃতিতেও শ্রদ্ধা জানাতে চাই। এটা আমার প্রস্তাব।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সৌদি আরব থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ছাল-বাকল দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, দ্রুত পদত্যাগ করুন। নইলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টের পাবেন। জনগণের দাবি মেনে না নিলে আপনাদের ছাল-বাকলও থাকবে না।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন। আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ জনসভার প্রধান বক্তা।

বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন কামাল হোসেন। এই জোটে বিএনপি ও গণফোরামের সঙ্গে আছে জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য। সাত দফা দাবিতে জনমত গঠনে এটাই তাদের প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ জনসভার প্রথম বক্তা ছিলেন জেলা সভাপতি আবু কাহের চৌধুরী শামীম। বিএনপি নেতাদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, মনিরুল হক চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির আসম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর ও মোস্তফা মহসিন মন্টু ছিলেন এ জনসভায়।

সুলতান মনসুরের মুজিব কোট খুলে নিলেন ছাত্রলীগ নেতা: সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শরীর থেকে মুজিব কোট খুলে নিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি আলী হোসেন। মঙ্গলবার রাতে নগরীর উপশহরে হোটেল রোজভিউয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটান ছাত্রলীগ নেতা, যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদ নির্মূল মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলী হোসেন।

এক সময়ের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শরীর থেকে মুজিব কোট খুলে নেয়ার কথা স্বীকার করে আলী হোসেন জানান, ‘সুলতান মনসুর এক সময় আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। এখন তিনি মোস্তাকদের দলে ভিড়েছেন। কোনো বেঈমানের গায়ে মুজিব কোট থাকতে পারে না।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলী হোসেন আরও বলেন, ‘শাহ আজিজুর রহমান সিলেটে আইয়ুব খানকে জুতা প্রদর্শন করেছেন, মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ মোস্তাকের স্টেজ ভেঙে দিয়েছেন আর আমি সুলতান মনসুরের মতো বেঈমানের গা থেকে মুজিব কোট খুলে নিয়েছি।’

তবে কার নির্দেশে এমনটি করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আলী হোসেন বলেন, ‘শেখ মুজিব আমার আদর্শিক পিতা। কারো প্ররোচনায় নয় বরং আমি আমার আদর্শিক অবস্থান থেকে এই কাজ করেছি। এর সঙ্গে আর কারো সম্পৃক্ততা নেই।’

বুধবার ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে সুলতান মনসুর মুজিব কোট পরে অংশ নিলে আবারও তা খুলে নেবেন বলে জানান আলী হোসেন।

সুলতান মুহাম্মদ মনসুর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিলেটের সমাবেশের সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এই সমাবেশে অংশ নিতে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি সিলেটে আসেন।

এরপর রাতে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে ফেরার সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুলতান মনসুর এবং মো. শাহজাহান হোটেল রোজভিউর সামনে এসে পৌঁছালে সেখানে সুলতান মনসুরকে লাঞ্ছিত করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলী হোসেন।

এ সময় তিনি সুলতান মনসুরের গায়ে পরিহিত মুজিব কোট খুলে নেন। পরে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সুলতান মনসুর ও বিএনপি নেতা মোহাম্মাদ শাহজাহানকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে আলী হোসেন নিজের ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘কাল বুধবার ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় যদি মুজিব কোট পরে আসে তাহলে দেখবে খেলা।’

এর ঘণ্টা দুয়েক পর আরেকটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন ‘আমি আমার কথা রেখেছি, সিলেটে এসেছিলাম বেঈমান সুলতান যেন আমার আর্দশিক পিতার মুজিব কোট তার গায়ে থেকে খোলার জন্য। আজ আমি করেছি। এখন চলে যাচ্ছি আশ্রয়স্থল ঢাকায়। খোদা হাফেজ।’

প্রসঙ্গত, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আলী হোসেনকে নানা অপকর্মের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি ও শাহপরাণ থানায় জায়গা দখল ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এদিকে ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলে সেদিন ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন তাদের একজন সুলতান মনসুর।