ওষুধের বিকল্পে যেসব ভেষজ উপাদান

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১ | আপডেট: ৯:১১:অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১

করোনা মহামারির মাঝে সবাই কমবেশি আতঙ্কিত। এর ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে অনেকেই নিচ্ছেন নানারকম পদক্ষেপ। তবু এটির প্রকোপ বেড়েই চলেছে। এর প্রতিকারে অনেকেই আবার বেছে নিচ্ছেন বিভিন্ন রকম ভেষজ উপাদানকে।

করোনা ছাড়াও বিভিন্ন রোগের প্রতিকারে আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে নানারকম ওষুধের ওপর। রোগ বেশি হয়ে গেলে আবার খেতে হয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও। এটি মূলত খাওয়া হয় শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া মেরে ফেলতে। অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের শরীরের ওপরে ফেলে নানারকম ক্ষতিকারক প্রভাব।

এর বাইরেও রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে বিভিন্ন রকমের ভেষজ উপাদান। আর এগুলোর ক্ষতিকারক প্রভাব বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় কম। কিন্তু এ ভেষজ উপাদানগুলো চাইলেই ব্যবহার করতে পারি বিভিন্ন রোগের ওষুধের বিকল্প হিসেবে। এতে এগুলো আমাদের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলবে না।

আমাদের হওয়া সাধারণ রোগের প্রতিকার হিসেবে প্রথমেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করে ভেষজ উপাদান ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কোনো ভেষজ উপাদান কোনো রোগের নিরাময়ে ব্যবহার করা যাবে। তাই জানুন বিভিন্ন ভেষজ উপাদানগুলো, যা কাজ করে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে—

তুলসি পাতা

তুলসিপাতায় অ্যালকালয়েড থাকায় এটি সর্দি-কাশি, জ্বর নিরাময়ে অনেক ভালো কাজ করে। নিয়ম করে এটি খেলে শরীরে মিলবে নানা উপকার।

আদা

আদা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী একটি উপাদান। এটি শরীরকে গরম রাখতে ও শরীরের জীবাণুকে বিস্তার লাভ রোধ করতে সাহায্য করে।

লবঙ্গ

লবঙ্গ গলাব্যথা, টনসিল ও ল্যারিনজাইটিসের মতো সমস্যা থেকে দূর রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও রয়েছে লবঙ্গে বিদ্যমান নানা গুণাবলী। গোলমরিচ

গোলমরিচ যে কোনো ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

হলুদ

হলুদে থাকা ‘কার্কিউমিন’ যা ব্যক্টেরিয়া ও ফাংগালের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে। এছাড়া হলুদ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণ রোধে বেশ কার্যকর।

আমলকী

পেটের বিভিন্ন রোগ ভালো করতে আমলকী বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া আমলকি সব ধরনের ক্রনিক ইনফেকশনের আক্রমণে থেকে রক্ষা করে।

দারুচিনি

দারুচিনি নানা ধরনের রোগজীবাণু ধংস করতে সাহায্য করে। এছাড়া দারুচিনি সরাসরি জীবাণুকে ধ্বংস করে থাকে।

বাসকপাতা

বাসকপাতার রস বা এর ফোটানো পানি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি আমাদের শুকনো কাশি, জমে থাকা কফ এবং কাশির সঙ্গে রক্তপাত হওয়ার সমস্যাকে নিরাময় করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে এটি লিভারের জন্যও অনেক উপকারী।

আনারস পাতা

আনারসের পাতার নিচের সাদা অংশ নিয়ে সেটি রস করে খেলে মিলবে পেটের কৃমি বা প্যারাসাইট থেকে প্রতিকার।

থানকুনি পাতা

প্রতিদিন নিয়ম করে থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেলে এটি অনেক উপকারী শরীরের জন্য। এবং আমাশয়, জিয়ার্ডিয়ার জীবাণু মারতে থানকুনি পাতা বেশ কার্যকরী।