ওসি ও প্রবাসীর স্ত্রীর ভুয়া আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

কটিয়াদী থানার ওসির সঙ্গে স্থানীয় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর একটি ভুয়া অশ্লীল ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি অফিস কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে এসে দিনব্যাপী তদন্ত কাজ চালায়।

এ সময় তারা ভুয়া অশ্লীল ভিডিও চিত্র ও অপ্রচারের বলি সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী এবং ওসির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে আলামত সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কমিটি প্রধান ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ অফিসের এসপি নাবিলা জাফরিন কে জানান, তদন্ত করে এ ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এ দুজনের চরিত্র ও ভাবমূর্তি হননের ন্যাক্কারজনক অপচেষ্টা বলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি এ অশ্লীল ভিডিও চিত্রের প্রকৃত লিঙ্ক পাওয়ার কথা স্বীকার করে এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় ওই সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাক থেকে পুরুষটির মাথা পর্যন্ত কেটে এডিট করা হয়েছে। প্রিয়া সুলতানা নামের একটি ফেইক আইডি থেকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে ওই ভিডিও চিত্র স্থানীয় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী এবং কটিয়াদী থানার ওসির বলে দাবি করা হয়।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এ মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ, প্রধান আসামি কটিয়াদী উপজেলার পৌর সদরের চরিয়াকোনা মহল্লার আসাদ মিয়ার ছেলে হিমেল (৩৪) এবং একই এলাকার মরহুম সৈয়দ শামসুদ্দোহা মজনুর ছেলে ২ নং আসামি সৈয়দ মুরছালিন দারাশিকোকে আটক করে।

এদের মধ্যে ২নং আসামি মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পায়। প্রধান আসামি হিমেলকে পরেরদিন আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

রোববার কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক হিমেলের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হিমেলকে রিমান্ড মঞ্জুর হলে ডিবির পরিদর্শক মহিউদ্দিন আহমেদ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

যোগাযোগ করা হলে এ সময় ডিবির পরিদর্শক ওই অশ্লীল ভিডিও চিত্র ভারতীয় পর্ণসাইট থেকে নেয়ার বিষয়টিও অবগত হয়েছেন বলেও জানান।

এর আগে শনিবার রাতে কটিয়াদী থানার ওসি স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে ওই ভিডিও চিত্রটি ভারতীয় পর্ণসাইট থেকে নেয়ার সব তথ্য প্রমাণ তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি দাবি করেন, মামলার এক নম্বর আসামির সহচর আসামি দারাশিকো প্রায়ই বিভিন্ন মামলার তদবির নিয়ে আসতেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি এসব তদবির নিয়ে আর না আসতে অনুরোধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ভুয়া অশ্লীল ভিডিও ছেড়ে তাদেরকে এবং পুলিশ বাহিনীকে ব্ল্যাকমেইল করার অপপ্রয়াস চালায়।

কটিয়াদী থানায় দায়েরকৃত মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে হিমেলের সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হিমেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে তিনি মামলার বিবরণে বলেন, হিমেল গোপনে তার মোবাইল ফোন থেকে স্বামীর সঙ্গে মেলামেশার কয়েকটি ছবি নিজের মোবাইলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সম্পর্ক করতে রাজি না হওয়ায় ২নং আসামি দারাশিকোর সহযোগিতায় হিমেল তার নগ্ন ছবি বিভিন্ন মোবাইলে ভাইরাল করে দেয়।

তার ও কটিয়াদী থানার ওসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও এডিট করে তার মুখমণ্ডল লাগানো হয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আপত্তিকর ছবিতে পুরুষ লোকটির মাথাবিহীন ছবিটি কটিয়াদী থানার ওসি বলে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি হিমেল ও দারাশিকো কিছু দিন আগে ওসির কাছে যায় এবং ওই সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে টাকা পায় বলে অভিযোগ করে।

ওসি স্থানীয় পৌরসভা চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, কাউন্সিলর সোহরাব উদ্দিন ও এসআই জহিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে নিষ্পত্তি করে দেন। সাক্ষী প্রমাণের অভাবে টাকা ছাড়া এ ঘটনা নিষ্পত্তির বিষয়েও তারা ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও জানান ওসি।