কঠোর লকডাউনেও চলছে খেয়া পারাপার, ৫ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১ | আপডেট: ৮:০৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২১

সৈয়দ রহমত আলী, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় লকডাউন করা হয়েছে পুরো দেশ। কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই মাগুরার মহম্মদপুরের খেয়াঘাট গুলোতে স্বাভাবিক যাত্রী পারাপার হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে বেশি টাকা ভাড়া গুনে নৌকায় পার হতে হচ্ছে। খেয়া ঘাটের নিয়ম এখন অনিয়মে পরিনত হয়েছে। অনেকের মুখে মাক্স নেই, কেউ মানছেনা স্বাস্থ্য বিধি।

করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পার্শবর্তী ফরিদপুর জেলার সাথে সংযোগ ঘটিয়েছে এই খেয়া ঘাট। করোনা উপসর্গ নিয়ে এক জেলার লোক অন্য জেলাতে সংক্রমন বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখছে।

লকডাউন কার্যকর এবং অনুপ্রবেশ বন্ধ করা না গেলে উর্ধ্বমুখি করোনা দিন দিন মহম্মদপুরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার মধুমতি নদীতে প্রায় ১০ টি পয়েন্টে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে খেয়া পারাপার স্বাভাবিক রেখেছে মাঝিরা।

লকডাউন অজুহাতে ৫ টাকার ভাড়া প্রথমে ১০ টাকা পরে তা বেড়ে ২০ টাকায় দাড়িয়েছে। মোটরসাইকেল সহ কেউ খেয়া পার হলে তাকে দিতে হয় ৭০ টাকা। কোন জবাবদিহিতা না থাকায় নিজেদের ইচ্ছা মত দিনদিন ভাড়া বাড়াচ্ছেন ঘাট ইজারাদাররা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় মধুমতি নদীতে কাঁশিপুর ঘাট, পাল্লা ঘাট, শিরগ্রাম ঘাট, দাতিয়াদহ মোল্যা বাড়ি ঘাট, হরিনাডাঙ্গা পূর্বপাড়া ঘাট, রায়পুর ঘাট, মাধবপুর খেয়া ঘাটে প্রতিদিন শত শত লোক পার হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গমন করছে। কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানছে যাত্রীরা।

হরিনাডাঙ্গা পূর্বপাড়া ঘাটে দাড়িয়ে থাকা রেজাউল মিয়া জানান, ‘কয়েকদিন ধরে পচন্ড জ্বর তাই ডাক্তার দেখাতে ফরিদপুরে যেতে হচ্ছে। কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে নদী পাড়ে দাড়িয়ে থাকায় পা ব্যথা করছে।’

নৌকার জন্য অপেক্ষায় ঢাকার যাত্রী আরাফাত হোসেন জানান, ‘এই মহামারিতে কি এমনি এমনি বাহিরে এসেছি। অফিস খোলা তাই ঢাকা যাচ্ছি। শত দূর্ভোগ হলে ঢাকায় পৌঁছাতেই হবে।’

হরিনাডাঙ্গা ঘাট ইজারাদার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি চেয়ারম্যানকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি। লকডাউনের কারনে কারনে জনপ্রতি ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তেল খরচ ও ট্রলার মেরামত সহ বিভিন্ন খাতে টাকা খরচ হয়ে যায়।

বাবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, মাত্র ৫৫ হাজার টাকায় খেয়া ঘাট ইজারা দেওয়া। যদি ইজারাদাররা জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া নেয় তবে সে চরম অন্যায় করেছে। স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে খেয়া চলাচল বন্ধ করা হবে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল বলেন, কঠোর লকডাউনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বিনা কারনে কেউ ঘরের বাহির হতে পারবে না। যারা বিনা কারনে ঘরের বাহির হচ্ছে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্ঠা করছি।
লকডাউনে শুধুমাত্র রোগী ছাড়া অন্যান্য যাত্রী পারাপার বন্ধ রাখার জন্য খেয়াঘাটের ইজারাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।