কথা বলতে না দেয়ায় এরদোয়ানের সেই নজিরবিহীন প্রতিবাদ (ভিডিও)

ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত মন্তব্য

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ | আপডেট: ১:৩৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

আজ থেকে প্রায় ৯ বছর আগের ঘটনা। তখন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সিমন পেরেজ। রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান ছিলেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমোকি ফোরামের সম্মেলনে এক বিতর্কে অংশ নেন দুই নেতা।

বিতর্কে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়টি সামনে আসে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন ইসরাইলে শতাধিক রকেট হামলা চালায়।

সিমন পেরেজের বক্তব্যের পরেই বিতর্ক শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এরদোয়ান অনুষ্ঠান উপস্থাপকের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে সময় চান। কিন্তু তিনি তাকে কথা বলতে সময় দেননি। তাকে উল্টো কথা না বলার জন্য অনুরোধ করেন।

ওই সম্মেলনটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হয়েছিল যখন অন্তত ১৩০০ ফিলিস্তিনি ইসরাইলি হামলায় নিহত হন।

তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এরদোয়ান বলেন, ‘আমি আপনার দেশের (ইসরাইল) দুইজন প্রধানমন্ত্রীর কথা স্মরণ করতে চাই। যারা বলেছিলেন, তারা যখন ট্যাংক নিয়ে ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে তখন তারা খুব খুশি হয়।’

এরদোয়ান বলতে থাকেন, ‘আমরা খুবই কষ্ট পাই যখন আপনাদের হাতে অনেক জনগণ নিহত হয় তখন আপনারা উচ্ছ্বসিত হন। আমি মনে করি এটা খুবই অন্যায়, আর এ মানবিক আচরণ নয়।’

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট ডেভিড ইগনেশাস। ডেভিড এরদোয়ানের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা নতুন করে বিতর্ক শুরু করতে পারছি না। আমাদের শেষ করতে হবে।’

এ পর্যায়ে ক্ষুব্ধ এরদোয়ান বলেন, ‘অনেক ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ। আমি আজকের পর আর কখনো দাভোসে আসবো বলে মনে করি না।’ এরপর তিনি সবাইকে অবাক করে তার ফাইলপত্র গুছিয়ে মঞ্চ থেকে বের হয়ে যান।

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে এমন সাহসী ভূমিকা নেয়ায় তুরস্কে এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা আরও তুঙ্গে উঠে।এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান যখন দেশে ফেরেন তখন তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে। তারা তুর্কি ভাষায় স্লোগান দিতে থাকে, ‘এরদোয়ান তুমি আমাদের গর্ব।’