‘কামড় দে, আব্বা ছুরি দিয়ে মার গলায় ঘাই দিছে’

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮
ছবি: সংগৃহীত

বাথরুমের ভেতরেই গলাকেটে হত্যা করা হয় রোকসানাকে। গলাকটা মৃতদেহের অংশ ছিল বাথরুমের ভেতরে। নিষ্প্রাণ দু’পা ছিল দরজার বাইরে। পেছনে দু’হাত বাধা, মুখের মধ্যে কাপড় গুজে দেয়া। খুন হওয়ার সময় গৃহবধূর আওয়াজ শোনেনি কেউই।

তবে ভয়াবহ ঘটনাটি ঠিকই টের পেয়েছে হতভাগ্য গৃহবধূ রোকসানার দুই শিশুপুত্র দুর্জয় ও সোহাগ।

তবে ভোর পাঁচটার কিছুটা আগে আড়াই বছর বয়সী ছোট ছেলে সোহাগ আর তার সাত বছরের বড় ভাই দুর্জয় পাশের বাসায় থাকা খালা লাভলী আকতারকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে।

দুর্জয় জানায়, ‘আব্বা ছুরি দিয়ে মার গলায় ঘাই দিয়েছে (গলাকেটে ফেলেছে)’।

ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া থানা তুলাতলী আলী মার্কেটের পঞ্চম তলার ভাড়া বাসায়।

নিহত রোকসানা আকতার কুমিল্লার মুরাদনগরের দইরামপুরের বাসিন্দা এবং চার সন্তানের জননী। সোহাগ ও দুর্জয়ের বড় দু’বোনের নাম তামান্না (১৩) এবং রুমানা (১০। রোকসানার দুই মেয়ে কুমিল্লায় নানা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে। বাবা-মায়ের সাথে থাকতো ছোট দু’ছেলে।

প্রায় ১৫ বছর আগে একই উপজেলার আরপাকনা এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে জয়নাল আবদীন ওরফে জয়নুদ্দিনের সঙ্গে রোকসানার পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়।

স্বামী ছিল জুয়াড়ি

নিহত রোকসানার বোন লাভলী আক্তার জানান, রোকসানা চট্টগ্রাম মহানগরের ফিশারীঘাটে মাছকাটার কাজ করেন। আর তার স্বামী জয়নাল প্রথম ক’মাস ফেরি করে পাকা কলা বিক্রি করতেন। জুয়া খেলার কারণে প্রতিদিনই খালি হাতে ফিরতেন।

এক-দু’দিন পর পর কখনও রোকসানা কখনওবা লাভলী জয়নালকে টাকা দিতেন কলা কিনে বিক্রি করতে দিত। সকালে বাসা থেকে টাকা নিয়ে বের হলেও সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতেন সেই খালি হাতেই।

এনিয়ে রোকসানা ও জয়নালের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকতো। কিছুদিন আগ থেকে তাকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। তবে জুয়ার নেশা তাকে ছাড়েনি।

লাভলী আকতার জানান, তিন মাস আগে রোকসানা ও জয়নাল তার পাশেল কক্ষটি ভাড়া নেয়। তবে ঠিকমতো ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তিন দিন আগে বাসার কেয়ারটেকার রোকসানার বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে কেয়ারটেকারকে বলেকয়ে সেটা আবার খোলা হয়।

মাকে বাঁচাতে বাবার হাতে কামড় দেয় শিশুপুত্র

লাভলী জানান, খুন হবার আগের রাতেও জয়নাল রোকসানার সাথে ঝগড়া করে। রাত একটার দিকে ঝগড়ার একপর্যায়ে রোকসানার গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে জয়নাল। তবে পাশে থাকা আড়াই বছরের ছোট ছেলে সোহাগ মায়ের গলাটিপে ধরতে দেখে বাবার হাতে কামড়ে ধরে। ফলে রোকসানাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সে। এরপর ভোর রাতের দিকে রোকসানাকে বাথরুমের মধ্যে হাত-পা ও মুখ বেঁধে জবাই করে হত্যা করে। স্ত্রীকে খুনের আগে ছোট ছেলে সোহাগের দু’হাত-পা ও মুখও বেঁধে ফেলে জয়নাল।

পুলিশ যা বলছে

সিএমপির বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে রাতে জয়নাল ও রোখসানা ঝগড়া করেন। ভোরের দিকে ছুরি দিয়ে স্ত্রী রোকসানাকে বাথরুমে জবাই করে হত্যা করে সে।

নিহতের লাশের পাশে খুনে ব্যবহৃত ছুরি পড়েছিলো। সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতককে আটকের চেষ্টা চলছে।