কালিয়াকৈরে পেঁপে চাষে সাবলম্বী হচ্ছে চাষীরা

আলহাজ হোসেন আলহাজ হোসেন

কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ৫:২৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় পেঁপে চাষ করে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করেছেন চাষীরা। দীর্ঘদিন মানবেতর জীবন যাপন করলেও পেঁপে চাষ করার পর ঘুরে গেছে তাদের ভাগ্যের চাকা। শুধু পেঁপে চাষীদের নয়, তাদের পেঁপে বাগানে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার বেকার নারী ও পুরুষদের।

কৃষি অফিস ও চাষীদের সূত্রে জানা গেছে,গাজীপুরে কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে এ বছর পেপের চাষ করা হয়েছে। অনেকের নিজের জমি না থাকায় জমি বর্গা নিয়ে করছেন পেপের চাষ। চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যেই তারা লাভের মুখ দেখতে থাকে।

উপজেলার শ্রীফলতলী, ফুলবাড়িয়া, মধ্যপাড়া, সাহেবাবাদ, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি পেঁপে-বাগান। পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক। জীবিকার দিশা পেয়েছেন অনেক শ্রমজীবী মানুষ। মাঠের পর মাঠ শুধু পেঁপে ক্ষেত। চাষিরা পেঁপেক্ষেত পরিচর্যা করছেন।

কৃষক ও ব্যবসায়ী মিলে গাছ থেকে পেঁপে পেড়ে ওজন দিয়ে বস্তায় ভরছেন। অন্যরা বাগানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে পেঁপের বস্তা তুলছেন। প্রতি হেক্টর জমি থেকে প্রায় বাইশ থেকে পঁচিশ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেন।

অনেক পেঁপে বাগানে পাশাপাশি বিভিন্ন ফসল হিসাবে কাচা মরিচ, লালশাক, হলুদের চাষও করে থাকেন। পেঁপে চাষ করে এক দিকে যেমন বেকারত্ব দুর হচ্ছে অপরদিকে তাদের পাশাপাশি পেপে বাগানে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার বেকার নারী ও পুরুষদের। পেঁপে চাষ লাভজনক দেখে দিন দিন এ পেশায় অনেকে ঝুকে পড়ছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পেঁপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি করা হয়।

বেগমপুর গ্রামের রমিজ উদ্দিন জানান, আমি এখন পুরোপুরি পেঁপে চাষি। পেঁপে চাষ আমার ভাগ্য ফিরিয়েছে। আমার মতো গ্রামের অনেকেই পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া করাচ্ছেন।পেঁপে চাষ গ্রামের কৃষকদের সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। তাই প্রতিবছরই পেঁপে-বাগান বাড়ছে।

উত্তর নস্করচালা গ্রামের .লোকমান হোসেন জানান,আমার ৪ থেকে ৫ বিঘা জমিতে পাঁচ বছর ধরে পেঁপের চাষ করছেন। এবছর আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

প্রতি সপ্তাহে তিনি বাগান থেকে লক্ষাধিক টাকার পেঁপে বিক্রি করছেন। মৌসুমের শেষ নাগাদ পেঁপে বাগান থেকে ১২-১৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমার কর জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৫০হেক্টর জমিতে পেঁপের চাষ হয়েছে পেপে চাষ লাভজনক বিধায় দিন দিন পেপে চাষীদের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকে পেপের সাথে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করছে। এছাড়া পেঁপে চাষীদের কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।