কালি লেপনের দায়ভার আমরা নিব না : শ্রমিক নেতা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৫:০৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮

কালি লেপনের দায়ভার শ্রমিক ফেডারেশন নেবে না। এরা শ্রমিক ফেডারেশনের লোক না। এর দায়ভার আমরা নিব না। এরা দুষ্কৃতকারী, সন্ত্রাসী। এ ধরনের নিচু কাজ আমরা সমর্থন করি না। যদি আমাদের লোক করে থাকে তাহলে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চাইলে তাদের আইনের আওতায় নিতে পারে। বললেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী।

আজ রোববার (২৮ আক্টোবর) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আরটিভি অনলাইনকে তিনি এ কথা বলেন।

ওসমান আলী বলেন, বাইরের অতি উৎসাহী লোক যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টিতে পায়তারা করছে। কালি লেপে দায়ভার আমাদের ঘাড়ে চাপাতে চায়। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি, ফেসবুকের ছবি ও ভিডিও বের করে দেখবো এরা কারা? এরপরে তাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা বাতিলসহ ৮ দফা দাবিতে আজ সকাল থেকে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী শুরু হওয়া এ কর্মবিরতিতে রাস্তাঘাটে গণপরিবহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়েছেন যানবাহন না পেয়ে।

কিন্তু শ্রমিক ফেডারেশনের এ কর্মবিরতির মধ্য দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক দাবি করা কিছু লোক মোটরসাইকেল চালক, সিএনজি চালক, অ্যাম্বুলেন্স চালকের মুখে পোড়া মোবিল মাখিয়ে দিচ্ছে। গাড়িতে মবিল দেয়া ও ড্রাইভারের মুখে কালি দেয়ার বেশ

কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ফুটেজ এরই মধ্যে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসব ভাইরাল হওয়া ছবিতে সাধারণ মানুষ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন।

ফেসবুকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখেছেন, পরিবহন শ্রমিকদের কাছে দেশের সাধারণ জনগণ আজ জিম্মি। দেশব্যাপী চলছে না কোনও গণপরিবহন। এর মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় চলছে।

এসব গাড়ির চালকদের ওপর ‘কালি হামলা’ চালাচ্ছে কথিত খান সেনারা! একজন শ্রমিক অন্য শ্রমিকের মুখে কালি লাগানোর মতো এহেন জঘন্য কাজ চোখে পড়েছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গাবতলী, কলাবাগান, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায়। জরুরি প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে করেও গন্তব্যে ছুটছেন মানুষ। পুরোপুরিই বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস। এহেন পরিস্থিতিতে যাত্রী সাধারণের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।

নুহজাহাতুল হাসান নামে একজন লিখেছেন, এটা নিখাদ মূর্খদের আন্দোলন। তাই কারও মুখে নয় দেশের মুখে কালিমা (কালি) লেপন করছে! উলঙ্গ দেশে বর্বরদের কালিমা লেপনের নগ্ন উল্লাস।

খাইজির হায়াত খান লিখেছেন, সাধারণ জনগণের মুখে কালি দিচ্ছেন নাকি সমস্ত দেশের আইনের উপর দিচ্ছেন ভেবে দেখবেন? পরিবহন শ্রমিক ভাইরা ভুল মানুষদের প্ররোচনায় গিয়ে দয়া করে বার বার আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিবেন না। এর পরিণাম কারও জন্যই ভালো হবে না।