কালোবাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রি, ডিলার ও ক্রেতা গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৭:৪৭:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২০
ছবি: টিবিটি

নড়াইলে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পণ্য কালোবাজারে বিক্রি ও মজুদ রাখার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

নড়াইল সদর থানা পুলিশ জানায়, টিসিবির পণ্য অবৈধ ভাবে ক্রয় করায় সদর উপজেলার নাকসী বাজারের লিটন শিকদারকে (৩৫) তার দোকান থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। লিটন নাকসী গ্রামের ইয়াসিন শিকদারের ছেলে।

লিটনের দোকান থেকে টিসিবি’র ১৮ বস্তা চিনি (প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি) এবং ২৪ বস্তা ছোলা (বস্তাপ্রতি ২৫ কেজি) জব্দ করা হয়। লিটন জানান, তিনি নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের টিসিবি ডিলার পরিতোষ কুন্ডুর (৬৫) কাছ থেকে এসব চিনি ও ছোলা কিনেছেন।

এরপর রূপগঞ্জ বাজার থেকে পরিতোষ কুন্ডুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরিতোষ শহরের কুড়িগ্রাম এলাকার স্বর্ণপট্টির রাজকুমার কুন্ডুর ছেলে। গ্রেফতারকৃত ২ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। রূপগঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান পরিতোষ কুন্ডু একজন অসৎ ব্যবসায়ী। তিনি ২টি টিসিবি ডিলারের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। টিসিবি’র ডিলারশীপ নেয়ার পর থেকে তার বিরূদ্ধে এ ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রমান সজ ধরতে না পারায় তার বিরূদ্ধে কখনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে অধিক মুনাফা করার জন্য টিসিবি’র সিংহভাগ পণ্য তিনি চোরাই পথে বিক্রি করে থাকেন। দুর্নীতিবাজ ডিলার পরিতোষ কুন্ডুর সাথে লোহাগড়ার দুর্নীতিবাজ টিসিবির ডিলার মেসার্স কুন্ডু ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী প্রবীর কুমার কুন্ডু মদন এর গভীর সখ্যতা রয়েছে। এ দু’জনে পরষ্পর যোগসাজোশে চোরাই পথে পণ্য বিক্রি করে আসছেন বলে গুঞ্জন আছে।

সাধারন ভোক্তাদেরও টিসিবি ডিলার পরিতোষ কুন্ডুর বিরূদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতা সাধারনরা জানান, তার ব্যবসা কেন্দ্রে টিসিবি পণ্য ক্রয় করতে গেলে তিনি দূর্ব্যবহার করেন। প্রয়োজনীয় পণ্য চাইলে সেই পন্যের সাথে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করেন। বেশির ভাগ সময় বলেন ফুরায় গেছে। ব্যবসা কেন্দ্রের সামনে পণ্যের কোন মূল্য তালিকা রাখেন না। নেই দর্শনীয় কোন সাইনবোর্ড। সে কারনে বেশির ভাগ মানুষ জানতেই পারেননি তিনি টিসিবি ডিলার।

পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর অনেকেই এখন বলছেন, তিনি যে টিসিবি ডিলার তা তারা জানতেন না। তার ডিলারশীপ বাতিল সহ দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন পিপিএম জানান, সাধারন মানুষের স্বার্থে সরকার টিসিবি পণ্য নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির কথা বলেছেন। সেই পণ্য বাইরে বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, টিসিবি’র পণ্য নিয়ে কোন ধরনের কারচুপি করলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।