কী বার্তা নিয়ে ফিরছেন ড. কামালরা

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:০৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮

সংসদ নির্বাচনসহ চলমান জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গণভবনে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সংলাপ শুরু হয়েছে। সংলাপে ১৪ দলের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ঐক্যফ্রন্টের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে বহুল প্রত্যাশিত এ সংলাপ শুরু হয়। বহুল প্রতীক্ষার সংলাপে আসলে কী নিয়ে ফিরবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এমন প্রশ্ন জনমতে। ঐক্যের সাত দফা দাবির কয়টা মানবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ?

সংলাপ শেষে কী বার্তা দিবেন ক্ষমতাসীন ও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সেই অপেক্ষায় গণভবনের বাইরে দাড়িঁয়ে আছেন প্রায় ১ হাজার গণমাধ্যমকর্মী। পাশাপাশি গণভবনের মূল ফটকের সামনে প্রায় ৫০ জনের মতো তরুণ সংঘাত নয় ফলপ্রসূ সংলাপের দাবিতে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন। তারা বলেন, কোনও অশান্তি নয় শুভ সংলাপ চান। কোনও ধরনের হানাহানি নয়, সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা।

মোমবাতি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলেন, আমার চাই দেশে শান্তি ফিরে আসুক। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হোক। কোন প্রকার হরতার, অবরোধ করে যেন দেশকে অস্থিতিশীল করা না হয়।

অপর একজন বলেন, অনেক প্রতিক্ষার পর অবশেষে সংলাপ হচ্ছে। এই সংলাপের মাধ্যমে যেন দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করে।

এর আগে সংলাপের জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৬ জনের নামের তালিকা পাঠানো হয় আওয়ামী লীগকে। এর মধ্যে বিএনপির পাঁচ প্রতিনিধি হলেন— মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস। তাদের সঙ্গে থাকছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরাম; গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুব্রত চৌধুরী; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন ও সহসভাপতি তানিয়া রব; ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মনসুর ও আ ব ম মোস্তফা আমিন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে থাকছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সংলাপের আড়াই ঘণ্টা আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে যোগ করা হয় আরও পাঁচজনের নাম।

নতুন যোগ হওয়া পাঁচ জনের মধ্যে দু’জন বিএনপির ও তিন জন গণফোরামের। বিএনপির দুই নেতা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্যদিকে, গণফোরামের তিন জন হলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিকুল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের পক্ষে সংলাপে অংশ নিয়েছেন- ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইন, মাঈনুদ্দিন খান বাদল, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, মাহাবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুল মতিন খসরু, আব্দুর রহমান, ড. আবদুস সোবহান গোলাম, ড. হাছান মাহমুদ ও অধ্যাপক শ. ম. রেজাউল করিম।

এই ২১ নেতার মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৭ জন, জাসদের দুইজন, সাম্যবাদী দলের একজন এবং ওয়াকার্স পার্টির একজন।

গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের জন্য চিঠি দিলে পরদিন ২৯ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, তারা সংলাপে বসতে রাজি। ৩০ অক্টোবর সকালে সংলাপের দিনক্ষণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠি নিয়ে দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ যান ড. কামালের বাসায়।