কুমিল্লায় শতবর্ষী মসজিদের পুকুরঘাট রক্ষার দাবীতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৫৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

শাজাদা এমরান, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা নগরীর শতবর্ষী কালিয়াজুড়ি জামে মসজিদের মুসুল্লিদের ওযু করার পুকুর ঘাটটি মাটি দিয়ে ভরাট করার পায়তারা চলছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাসহ মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী মুসুল্লিারা পুকুরের ঘাট রক্ষার দাবীতে সোচ্চার হওয়ার খবর পাওয়া যায়। মুসুল্লিরা অত্র এলাকার শতবর্ষী মসজিদের পুকুর ঘাটটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জনপ্রতিনিধি-জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।

একই বিষয়ে গত ১ জানুয়ারি মঙ্গলবার স্থানীয় জামাল হোসেন এলাকাবাসীর পক্ষে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। তারই প্রেক্ষিতে আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়া ও স্থানীয় কাউন্সিলর সুমী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বৈঠক করেন।

মসজিদের মুসল্লী জামাল হোসেন জানান, কুমিল্লা মহানগরীর ৩ নং ওয়ার্ডের শতবর্ষী কালিয়াজুড়ি জামে মসজিদের সামনে পুকুরঘাটটি মুসুল্লিরা দীর্ঘ বছর ধরে ওযু এবং মসজিদ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি পুকুরটির মালিকানা দাবি করে ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৫০) মসজিদের সামনের পুকুরঘাটটি মাটি দিয়ে ভরাট করার পায়তারা করছে।

সে লক্ষ্য মনিরুল ইসলাম পুকুরঘাটটির চারপাশে মাটির স্তুপ ও ময়লা আবর্জনা দ্বারা বেষ্টিত করেছে। এছাড়াও এখন থেকে যেন কেউ কোন কাজে পুকুরঘাটটি আর ব্যবহার না করে সে জন্য মনিরুল ইসলাম সবাইকে সর্তক করে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং মসজিদের নিয়মিত নামাজ আদায়কারী সাধারণ মুসুল্লিারা প্রতিবাদ করে।

প্রথমে তারা মনিরুল ইসলামকে বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মনিরুল ইসলামের সাফ কথা তার মালিকানাধীন পুকুর এবং পুকুর ঘাট কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহা উদ্দিন বাহারকে জানানএকই সাথে এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

পরে অভিযোগ পেয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়া রোববার পুকুরঘাটটি পরিদর্শণ করেন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর কাউছারা বেগম সুমিসহ মুসুল্লি ও স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য বৈঠক করেন। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়া জানান, আমি স্থানীয় বাসিন্দা- মসজিদের নিয়মিত নামাজ আদায়াকারী মুসুল্লিসহ সংরক্ষিত কাউন্সিলর কাউছারা বেগম সুমিসহ পুকুরের মালিকানা দাবি করা মনিরুল ইসলামকে নিয়ে বসে বিষযটি সুরাহ করার চেষ্টা করি।

পুকুর এবং পুকুরঘাটের মালিকানা দাবী করা মনিরুল ইসলামকে বলেছি সাধারণ মুসুল্লিদের নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পুকুরঘাট ভরাট না করার জন্য। অন্যথায় যারা পুকুরঘাট ভরাটের কাজে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে শতবর্ষী মসজিদের পুকুরঘাট অবৈধভাবে ভরাটের বিষয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মনিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি পুরোপুরি সত্য না।

মূলত এখানে যে বাজার বসে সে বাজারের ময়লা আবর্জনা পুকুরঘাটের পাশে ফেলে পুকুরের পানি নষ্ট করা হচ্ছে। আমি মূলত দূষণ থেকে পুকুর ও পুকুর ঘাটটি রক্ষা করার জন্য মাটি দিয়ে আবর্জনা মাটি চাপা দেয়ার চেষ্টা করছি। আমিও চাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুকুরটির পানি দূষণ ও পুকুরঘাটটি রক্ষা করতে। আশা করি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হবে।