কোটা বাতিলকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৫০:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৮

টিবিটি জাতীয়ঃকোটা বাতিলকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষাবিদরা বলেছেন, এর মাধ্যমে মেধাবীদের মূল্যায়ন হবে। তবে কোটা বাতিল নিয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিবের বক্তব্য অস্পষ্ট দাবি করে কোটাধারীদের আলাদাভাবে নিয়োগের সুবিধা দিলে তা মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

বুধবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে কোটা বাতিল বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি এ কথা জানায়। এদিকে তবে বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে মুক্তিযুদ্ধের সন্তান কমাণ্ড ও আদিবাসিরা।

মন্ত্রীপরিষদ বৈঠক থেকে কোটা বাতিলের অনুমোদনের ঘোষণার পর বুধবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরী বৈঠক বসেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষন পরিষদের নেতারা।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, কোটা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদের সিদ্ধান্ত তাদের কাছে অস্পষ্ট। তাছাড়া তারা বাতিল নয়, কোটার সংস্কার চেয়েছিলেন বলেও জানান।

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে কোন বক্তব্য না থাকায় তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।কোটা বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সন্তান কমাণ্ড ও আদিবাসিরা।

আদিবাসী কোটা সংরক্ষণ পরিষদের সমন্বয়ক সতেজ চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ের মানুষের এখনও অনেক কষ্ট করে স্কুলে যাই। সেই ছাত্রছাত্রীরা মূলধারার জনগোষ্ঠির সঙ্গে মিলে চাকরীর ব্যবস্থা করবে সেই বাস্তবতা এখনও তৈরি হয়নি। এজন্য আমরা মনে করি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য কোটার ব্যবস্থা রাখা জরুরী।’

ঢাবির মুক্তযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটার ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা থাকবে না, এই ধরণের প্রতিবেদন ও সুপারিশ অবশ্যই অপমানজনক। কারণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা প্রত্যকটি শ্রেণিতে চাকরি করার যোগ্যতা রাখে।’

চাকুরীতে কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও শিক্ষাবিদ আরেফিন সিদ্দিক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে নেবার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের স্বার্থে এটি যথযথ সিদ্ধান্ত। কারণ প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে মেধায় একমাত্র যোগ্যতা এটিই এখন বিবেচিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির ক্ষেত্রে শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা বহাল রাখতে হবে। যাতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি তাদের প্রস্তুত করার জন্য যথেষ্ঠ সুযোগ পাই।’