খলিলকে নিয়ে যা বললেন কোহলি

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৪৩:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৮
ছবিঃ সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওডিআই সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জেতার পর ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেন, ‘এই সিরিজের দুটি সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, সেকেন্ড ডাউনে অম্বাতি রায়াডুর সলিড ব্যাটিং পারফরম্যান্স এবং তৃতীয় সিমার হিসাবে খলিল আহমেদের প্রতিষ্ঠা। আগামী বছর জুনে বিশ্বকাপের আগে এই দুটি অভাব পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা সিরিজ শুরু করেছিলাম। সেদিক থেকে বলতে পারি, দুটি লক্ষই আমরা পূরণ করতে পেরেছি। রায়াডু দায়িত্ব নিয়ে চার নম্বরে ব্যাট করেছে। ভুবি এবং বুমরাহের ওপেনিং স্পেলের পর আমাদের একজন দক্ষ তৃতীয় সিমারের প্রয়োজন ছিল। যে উইকেট টেকিং বোলার হবে আর একই সঙ্গে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। খালিলের বল দেখে মনে হয়েছে, আগামী বছর বিশ্বকাপে ও কাজে লাগতে পারে ইংল্যান্ডের উইকেটে।’





ভারতীয় দলের কোচ রবি শাস্ত্রীও এই দু’জনের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আমি রায়াডুর পারফরম্যান্সে খুশি। দীর্ঘদিন বাদে ভারতীয় দলে কামব্যাক করে টিম ম্যানেজমেন্টকে খুশি করা খুব সহজ ব্যাপার নয়। ব্যাট হাতে প্রারম্ভিক চাপ সামলে রায়াডু যেভাবে চতুর্থ ওডিআই ম্যাচে রহিতের সঙ্গে লম্বা জুটি বেঁধে সেঞ্চুরি করেছে তা আমাকে খুশি করেছে। যদি ও এই সিরিজে ব্যর্থ হত তাহলে হয়ত অম্বাতি রায়াডু আবার ভারতীয় দল থেকে ছিটকে যেত। তাই চাপ সামলে ভালো ব্যাট করার জন্য রায়াডু’র প্রশংসা প্রাপ্য। আর খলিল আহমেদ সম্পর্কে বলব, আমাদের একজন বাঁহাতি পেসারের দরকার ছিল। এতে পেস আক্রমণের বৈচিত্র বাড়ে। এখনও খলিলের বোলিংয়ে অনেক পালিশ দরকার। ওর অভিজ্ঞতাও কম। কিন্তু ওর বলে বৈচিত্র আছে। সেই সঙ্গে ও আক্রমণাত্মক মেজাজে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানকে বিব্রত করতে পারে। গতির সঙ্গে যখন বৈচিত্র ও কার্যকারিতা যুক্ত হবে তখন খলিল হয়ে উঠতে পারে ভারতীয় দলের সম্পদ। টানা ছ’টি ওডিআই সিরিজ আমরা ঘরের মাঠে জিতলাম। ভারতীয় দল আবার সঠিক রাস্তায় ফিরে এসেছে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে আমাদের ফিল্ডিং আশাপ্রদ হয়নি। সেটাই ছিল দলের কাছে ওয়েক-আপ কল। আমাদের ছেলেরা সেই ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেদের ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়েছে।’





কোহলি বলেন, ‘আমি শেষ দুটি ম্যাচে বোলারদের পারফরম্যান্সে খুশি। তারা ক্লিনিকাল পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। স্পিন এবং পেস আক্রমণে পুনরায় ভারসাম্য ফিরে এসেছে। এটা ভালো লক্ষণ। বোলারদের জন্যই আমরা খুব অল্প রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বেঁধে রাখতে পেরেছিলাম। যার ফলে ব্যাটসম্যানদের কাজ খুব সহজ হয়ে যায়। এর আগে কিছু বাজে শট নিতে গিয়ে আমাদের দলের কেউ কেউ আউট হয়েছে। আশা করি এই ভুলের আর পুনরাবৃত্তি হবে না।’

মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্রিকেট কেরিয়ারের ওপর কি বিশ্বকাপের আগেই যবনিকা পড়তে চলেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে কোহলি বলেন, ‘এর উত্তর ইতিমধ্যেই নির্বাচকরা দিয়েছেন। আগামী বিশ্বকাপেও ওডিআই ফরম্যাটে এমএস ধোনি ভারতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে থাকবেন। টি-২০ সিরিজে ধোনির আন্ডারস্টাডি হিসেবে ঋষভ পন্থকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। এরপর ধোনির ব্যাপারে আমার নতুন করে ব্যাখ্যা দেয়ার কিছু নেই।’





টি-২০ সিরিজে ধোনিকে নাকি নির্বাচকরা বাদ দিয়েছিলেন? এর জবাবে কোহলি আবার জানান, ‘ধোনি এখন মূলত একদিনের ক্রিকেট নিয়মিত খেলে থাকেন। সেই সঙ্গে দলের জুনিয়রদের পর্যাপ্ত সাহায্য করে ধোনি। সুতরাং ওর সম্পর্কে অন্যরকম ভাবনার কোনো কারণ ঘটেনি। তবে ধোনির ব্যাকআপ হিসেবে কাউকে তৈরি রাখতেই হয়। যেমন আমরা চাইছিলাম, ভুবি এবং বুমরাহের পর তৃতীয় পেসার বেছে নিতে। বিশ্বকাপের এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্ডিং করার সময় ১১ জনের ভূমিকাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। চোট থাকার জন্য হার্দিক পান্ডিয়াকে এই সিরিজে পাওয়া যায়নি। তবে ও খুবই ইউটিলিটি ক্রিকেটার। হার্দিক নেই বলেই কেদার যাদবকে স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে সুযোগ দেয়া হয়েছে। হার্দিক ফিট হলে চতুর্থ পেসারের কাজটা ও চালিয়ে নিতে পারবে। দলে ভারসাম্য রাখার জন্য আর এক স্পিনিং অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার ভূমিকা আমাদের নজর কেড়েছে। টেস্টেও ও ভালো পারফর্ম করেছে। ব্যাটে-বলে অবদান রাখা খুব সহজ নয়। আমাদের ফিল্ডিংয়ে আরও উন্নতির অবকাশ আছে।’