খালেদ-শামীমের পর কে?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

রাজধানীর ফকিরেরপুলে ক্যাসিনো চালানোসহ নানা অভিযোগে গত বুধবার গ্রেফতার হয়েছেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুইয়া। তিনি এখন ৭ দিনের রিমান্ডে আছেন।খালেদের গ্রেফতারের ২ দিন পর শুক্রবার গ্রেফতার হয়েছেন যুবলীগের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা জি কে শামীম। রাজধানীর নিকেতন থেকে তাকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআরের কাগজপত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

অভিযান চলছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রেও। এখন প্রশ্ন উঠেছে, খালেদ ও শামীমের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে বন্দী হচ্ছেন কারা?

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় ফোরামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে ক্যাসিনো বা জুয়া পরিচালনা,মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করার অভিযোগের বিষয়ে ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেন। ইতিমধ্যে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে শোভন-রাব্বানীকে।

অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় গুলশান-২ এর নিজ বাসা থেকে অস্ত্রসহ যুবলীগনেতা খালেদ মাহমুদ ভুইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে খালেদের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে গুলশান থানায় মামলাগুলো করা হয়।অভিযান চালিয়ে খালেদ নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালত ৩টি ক্যাসিনো থেকে পবপুল পরিমাণ অর্থ, মাদকদ্রবসহ শতাধিক নারী পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়। সিলগালা করে দেয়া হয়ে ফকিরাপুলের ‘ইয়ংমেন্স ক্লাব’ ক্যাসিনো, বনানীর ‘গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ’ ক্যাসিনো,গুলিস্তানের ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র’ ক্যাসিনো এবং মতিঝিলের আরামবাগে ‘ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব’ ক্যাসিনো।

খালেদের আলোচনা-সমালোচনা শেষ না হতেই শুক্রবার রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করে র‌্যাব। ভোর ৬টা থেকে সাদা পোশাকে শুরু হয় র‌্যাবের এই অভিযান। বিকেল সাড়ে ৪টায় অভিযান শেষে শামীমসহ ৮ জনকে আটক করার বিষয় জানিয়েছে র‌্যাব।

অভিযান শেষে শামীমের নিকেতনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, অভিযান ১ কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) পেয়েছি। এর মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে। এ ছাড়া তার কাছ থেকে মার্কিন ডলার, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে। এগুলোর লাইসেন্সের সত্যতা আমরা যাচাই করব। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আটজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছি।

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তিনি যুবলীগের কেউ নন, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

এদিকে ২ দিনের ব্যবধানে যুবলীগের দুই প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেফতারের পর তাদের অনুসারীসহ অন্যদের মধ্যেও ভীতি কাজ করছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, শুধু খালেদ ও শামীম নয়। তাদের সাথে ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে আরো অনেকেই জড়িত। তারাও যেকোনো মুহুর্তে গ্রেফতার হতে পারেন-এমন আশঙ্কায় রয়েছেন। খালেদ-শামীমের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে কারাবন্দী হচ্ছে তা নিয়েও কৌতুহল দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে।