গণধর্ষণের শিকার নারীর খোঁজ-খবর নিতে সুবর্ণচর যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৯

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় চার সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (০৫ জানুয়ারি) সকালে তারা সুবর্ণচর যাবেন।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, শনিবার ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সুবর্ণচর যাবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনগত রাতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর খোঁজ খবর নিতেই নেতারা সেখানে যাবেন।

জানা যায়, সকাল দশটার দিকে গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা সুবর্ণচরের উদ্দেশে রওনা হবেন।

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসন নোয়াখালী-৪ এর ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান থাকবেন।

ওই গৃহবধূ এবং তার স্বজনদের অভিযোগ, রোববার (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচনের দিন সেই নারী ধানের শীষে ভোট দিয়ে ফেরার পথে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন।

এরপর রাতে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ১০ জন মিলে ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে তার স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে রেখে তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করেন। এছাড়া ওই দম্পতি এবং তাদের সন্তানদের পিটিয়ে জখম করেন তারা।

এরপর সকালে সেই নারীকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেই নারীকে গণধর্ষণ ও পিটিয়ে জখম করার আলামত পাওয়ার কথা জানান।

পরের দিন ৩১ ডিসেম্বর সেই নারীর স্বামী চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু গৃহবধূর স্বজনরা অভিযোগ করেন, এই বর্বরোচিত কাণ্ডে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই রুহুল আমিনকেই আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। সরকারের পক্ষে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও জানিয়ে দেন, গণধর্ষণের ঘটনায় কেউ রেহাই পাবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে।

এর প্রেক্ষিতেই বুধবার রাতে রুহুল আমিনসহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে গ্রেফতার তিন আসামি হলেন সুবর্ণচরের মধ্য বাগ্যা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে সোহেল (৩৫), মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে স্বপন (৩৫) ও একই গ্রামের আহমদ উল্লার ছেলে বাসু (৪০)।

শুক্রবার ভোরে পুলিশের একটি দল চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত জসিম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।